এমকে হক, জার্মানি

ইউরোপের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি জার্মানি। বর্তমানে যারা তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা সফটওয়্যার শিল্পে যুক্ত আছেন, তাদের জন্য এই দেশে আসার সবচেয়ে সহজ এবং সম্পূর্ণ বৈধ পথের নাম ‘অপরচুনিটি কার্ড’।

অনেকেই প্রায়ই জানতে চান, এই বিশেষ সুবিধাটি পেতে হলে একজন মানুষের কাজের ধরণ কেমন হতে হয়? আজ কোনো কাল্পনিক বা চটকদার গল্প নয়, আমার নিজের পাঁচ বছরের বাস্তব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোতে আপনাদের সেই পেশাদার হিসাবটা বুঝিয়ে দিতে চাই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় আজকাল রাতারাতি সফল হওয়ার বহু গল্প চোখে পড়ে। কিন্তু বাস্তবতা সবসময়ই একদম ভিন্ন আর কঠিন হয়। জার্মানির একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে আজ আমি দুই বছর ধরে উচ্চপদে কর্মরত। তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রযুক্তি খাতে দিন-রাত হাড়ভাঙা খাটুনির এক দীর্ঘ ইতিহাস।

আমার এই পথচলাটা শুরু হয়েছিল একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি প্রথমে শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ শুরু করি। কারণ বাস্তবমুখী প্রকল্পে সরাসরি কাজ না শিখলে প্রাতিষ্ঠানিক করপোরেট জীবনে টিকে থাকা অসম্ভব।

এরপর নিজের কাজের দক্ষতা ও প্রযুক্তির জ্ঞানকে আরও উন্নত করতে করতে তিনটি আলাদা পেশাদার কোম্পানিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এই দীর্ঘ সময়ের মজবুত কাজের খতিয়ানই মূলত আমাকে আজকে জার্মানির এই সম্মানজনক অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মানুষদের জন্য এই ‘সুযোগ কার্ড’ কেন একটি সোনালী টিকিট, তা গভীরভাবে বোঝা দরকার। আপনার যদি আমার মতো অন্তত দুই থেকে পাঁচ বছরের পেশাদার কাজের অভিজ্ঞতা থাকে এবং নিজের ঝুলিতে ভালো ভালো প্রকল্প করা থাকে, তবে জার্মানির এই পয়েন্ট-ভিত্তিক বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে আপনি কোনো আগাম চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই সরাসরি জার্মানি চলে আসতে পারবেন।

এখানে এসে স্থায়ী চাকরি খোঁজার বৈধ অনুমতি পেয়ে যাবেন আপনি। আর এই খাতে ভাষার চেয়ে আপনার কোডিং করার ক্ষমতা এবং যে কোনো সমস্যা সমাধানের উপস্থিত বুদ্ধিকে সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করা হয়।

শুরুর দিকের চাকরিগুলোতে বেতন যাই হোক না কেন, কাজটা মন দিয়ে শিখুন। তিন-চার বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর একটি শক্তিশালী কাজের ইতিহাস যখন আপনার সাথে থাকবে, তখন শুধু জার্মানি কেন, বিশ্ববাজারের যে কোনো বড় দরজা আপনার জন্য অনায়াসে খুলে যাবে।

রাতারাতি কোনো অলৌকিক কিছুর আশা না করে আজ থেকেই নিজের কাজের বিবরণী সুন্দরভাবে গোছাতে শুরু করুন। আজকের এই কঠোর পরিশ্রমই আগামী দিনে আপনার সাফল্যের রাজপথ তৈরি করবে।

এমআরএম