ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের বর্ষাকালীন দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি নাগরিকদের অবৈধ জমি দখল, ড্রেন বন্ধ করা এবং সরকারি অবকাঠামোর অপব্যবহারের ফলে তৈরি একটি ‘স্ব-সৃষ্ট সংকট’। বোম্বে হাইকোর্ট এক শুনানিতে এই কঠোর মন্তব্য করেছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেই এবং বিচারপতি গৌতম আনখাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, মুম্বাইয়ের রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়াটাই যেন এই শহরের ‘নিয়তি’। কারণ বাসিন্দারা ময়লা-আবর্জনা ফেলে ড্রেন ও নর্দমা বন্ধ করে দেয়, পাকা রাস্তাগুলোকে অবৈধ পার্কিং জোনে পরিণত করে এবং ফুটপাতগুলোতে খাবারের দোকান বসিয়ে চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে।

আদালত এই বিষয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ঘুগেই উল্লেখ করেন, খোদ হাইকোর্টের বাইরের ফুটপাতও অবৈধ দোকানদারদের দখলে চলে গেছে।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘নিজেদের মাতৃভূমিকে লুট করাই যেন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমরা অবৈধভাবে জমি দখল করি, আর যখন উচ্ছেদের নোটিশ আসে কেবল তখনই আইনের বই খুঁজে বেড়াই।’

এদিকে সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন সংক্রান্ত অপর এক নাগরিক মামলায়, সিওন-ট্রম্বে সড়কের মান্ডালা গ্রামে রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্প নিয়ে পরমাণু শক্তি বিভাগকে (ডিএই) আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট।

বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (বিএমসি) পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্বকারী সিনিয়র আইনজীবী মিলিন্দ সঙ্গে জানান, বিদ্যমান ৩০ ফুট চওড়া রাস্তাটি সচল রাখতে পৌরসভা ইতিমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে এবং ১৯২টি গাছ কেটে ফেলেছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিকটবর্তী ভাবা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের (বার্ক) নিয়ন্ত্রণাধীন বাকি ২০ ফুট দখলমুক্ত জমি যদি পরমাণু শক্তি বিভাগ (ডিএই) তাদের হাতে হস্তান্তর করে, তবে তারা পুরো সড়কটি ৫০ ফুট প্রশস্ত করতে প্রস্তুত। তবে এই জমি হস্তান্তরে ডিএই-এর পক্ষ থেকে এক ধরনের অনীহা দেখা যাচ্ছে বলে আদালতের শুনানিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, জমি হস্তান্তরের বিষয়ে পরমাণু শক্তি বিভাগকে অতি দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য চলতি মাসের শেষের দিকে দিন ধার্য করেছেন।