হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জের ধরে ইরানের ওপর ব্যাপক প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে চালানো এই অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবহরসহ ৮০টিরও বেশি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

বুধবার (৮ জুলাই) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে। খবর আনাদোলুর। 

সেন্টকম জানায়, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এবং এর আশেপাশের এলাকায় এই আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো হয়। হামলায় ইরানের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া, আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি ছোট যুদ্ধ-নৌকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। 

বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরানের সাম্প্রতিক হামলার তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত জবাব দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে নির্বিঘ্নে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই অভিযান। 

বিবৃতিতে সেন্টকম হুুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্য করা হলে ইরানকে উপযুক্ত জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে সেন্টকম বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। 

এই সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে হরমুজ প্রণালির কাছে কাতারের মালিকানাধীন তেল ট্যাঙ্কার ‘আল রেখায়াত’-এর ওপর একটি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই হামলার পর কাতার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দোহায় নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।  

তবে কাতারের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে তেহরান সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   

তিনি বলেন, “যেসব জাহাজ ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো রুট ব্যবহার করে, তারা মূলত নিজেদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই ধরনের আচরণ ওই অঞ্চলে নিরাপদ নৌচলাচল বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইরানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।” 

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, কাতারের একটি তেল ট্যাঙ্কার মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় ওমানি রুট ব্যবহার করে পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করায় জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।