দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির অভিযোগ, থানা থেকে অস্ত্র নয়ছয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের অসাধু চক্রের সহযোগিতা বা গাফিলতির ইঙ্গিত মিলছে। একই সঙ্গে এনসিপির সভায় হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে দলটি।

আজ বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।

নাঈম আহমাদ বলেন, সম্প্রতি এনসিপির সভায় হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে অতীতের দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।

তিনি বলেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের সহায়তায় হামলার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত এবং সরকারকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে।

নাঈম আহমাদ আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার পেছনে কারা ছিল এবং কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করা জরুরি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এনসিপিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কর্মীদের যোগদানের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির কয়েকজন নেতার প্রতিশোধমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে নাঈম আহমাদ বলেন, এমন ভাষা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় নয়; বরং এটি পুরোনো সহিংস রাজনীতির ধারাবাহিকতা। নতুন রাজনীতির নামে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে এমন অভিযোগ এসেছে যে, এসব অস্ত্রের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রও থাকতে পারে। এ ছাড়া জুলাইয়ের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পরবর্তী সময়েও থানা থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া বা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে।

তাঁর ভাষায়, এসব ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের কোনো অসাধু চক্রের সহযোগিতা, গাফিলতি বা যোগসাজশ ছাড়া এমনটি সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তিনি।

সারা দেশে কালেমাখচিত পতাকা উত্তোলনের বিষয়েও বক্তব্য দেন জেডিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে কেউ যেন নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিতর্ক এড়াতে ভিন্ন ক্যালিগ্রাফির কালেমার পতাকা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাঈম আহমাদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, লুটপাট, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশ আরও অস্থিতিশীল হবে এবং এর রাজনৈতিক সুবিধা আওয়ামী লীগ পেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এনসিপির সভায় হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনলাইনে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, নির্বাহী পর্ষদ সদস্য ফুয়াদ জামান ও শেহনাজ রশীদ খান এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ উপস্থিত ছিলেন।