কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী নেতা প্যাট্রিস লুমুম্বার জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯২৫ সালের ২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। কঙ্গোর স্বাধীনতাসংগ্রামে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। লুমুম্বা ১৯৬০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (তৎকালীন কঙ্গো প্রজাতন্ত্র) প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বেলজিয়ামের উপনিবেশ থেকে স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসাবে কঙ্গোর রূপান্তরে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মতাদর্শগতভাবে লুমুম্বা ছিলেন একজন আফ্রিকান জাতীয়তাবাদী ও সর্ব-আফ্রিকাবাদী। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত কঙ্গোর জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৬০ সালে কঙ্গোর স্বাধীনতা অর্জনের কিছু পরে দেশটির সেনাবাহিনীতে একটি বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়, যা কঙ্গো সংকটের সূচনা করে। লুমুম্বা মোয়াজ তশোম্বের নেতৃত্বাধীন ও বেলজিয়ামের মদদপুষ্ট কাতাঙ্গান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সাহায্য প্রার্থনা করেন। উভয়েই লুমুম্বার সাহায্যের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। কারণ, পশ্চিমা বিশ্বের অনেকের সন্দেহ ছিল, লুমুম্বা গোপনে সাম্যবাদের পক্ষে। যখন লুমুম্বা সাহায্যের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে আবেদন করেন, তখন এ সন্দেহ আরও জোরদার হয়। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ লুমুম্বার ক্ষমতায় আসাকে ‘ধ্রুপদি সাম্যবাদী ক্ষমতা দখল’ হিসাবে বর্ণনা করে। এর ফলে লুমুম্বার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাসা-ভুবু এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান মোবুতু সেসে সেকোর দূরত্ব সৃষ্টি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যারা স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধী ছিল। মোবুতু ১৯৬১ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান। এ সামরিক অভ্যুত্থানের পর লুমুম্বা তার সমর্থকদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য স্তানলেভিলে পালানোর চেষ্টা করেন, যারা সেখানে মোবুতুবিরোধী একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করেছিল, যার নাম ছিল স্বাধীন কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। পথে লুমুম্বাকে গ্রেফতার ও কারাবন্দি করা হয়। তাকে এরপর কাতাঙ্গান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং কাতাঙ্গান ও বেলজীয় কর্মকর্তাদের সম্মুখে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহকে অগভীর গর্তে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরে উঠিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়। হত্যার পর লুমুম্বা বৃহত্তর সর্ব-আফ্রিকাবাদী আন্দোলনের একজন আত্মত্যাগী শহীদ হিসাবে গণ্য হন। পরবর্তী বছরগুলোয় তদন্তে তার মৃত্যুকালীন ঘটনাগুরোর ওপর, বিশেষ করে তার হত্যাকাণ্ডে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০০২ সালে বেলজিয়াম সরকার লুমুম্বার হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রাখার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করে।