বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫ তম মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার জীবন, কর্ম ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এ স্থাপিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুস সোবাহান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হলগুলোর প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোমেনুর রসুলও উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান দেবশ্রী দোলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুস সোবাহান। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোমেনুর রসুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. আবদুস সোবাহান বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির নন, তিনি বিশ্বমানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার সাহিত্য, দর্শন, শিক্ষা-চিন্তা এবং মানবকল্যাণের আদর্শ আজও আমাদের ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল চেতনাই রবীন্দ্র-ভাবধারার বিকাশ, গবেষণা ও চর্চাকে এগিয়ে নেওয়া।”
তিনি আরো বলেন, “শিক্ষার্থীদের রবীন্দ্রচর্চার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সৃজনশীল মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা আমাদের মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্র-দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্যের সমন্বয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির জীবন, কর্ম ও দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।








