রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরা। ঢাকার নীলক্ষেত, বকশিবাজার, নিউমার্কেট, আজিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস নিতে পারেননি অনেক চালক। গ্যাস না থাকার কারণে সব স্টেশনে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ রাখা হয়েছে দিনের বেলা। গ্যাস নিতে হচ্ছে রাতে। 

চালকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে গ্যাস নেওয়া গেলেও এখন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সেটিও রাতের বেলা। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি সংগ্রহে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রী পরিবহন ও পণ্য সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে।

নীলক্ষেত এলাকার একটি সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক রবিউল বলেন, “সারা রাত লাইনে থেকে ভোরে গ্যাস পেয়েছি। সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় কম। চাপ এত কম যে গাড়িতে ঠিকমতো গ্যাসই উঠছে না।”

নিউমার্কেট এলাকার আরেক লেগুনা চালক শহীদ মিয়ার অভিযোগ, “প্রতিদিনের আয়ের বড় অংশই এখন লাইনে অপেক্ষা করতে করতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাব কীভাবে?”

সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, “অনেক স্টেশনে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। কোথাও কোথাও চাপ শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসায় নিয়মিতভাবে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাজধানীর বেশির ভাগ স্টেশনেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।”

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট। এ কারণে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের তীব্র চাপ সংকট দেখা দিয়েছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের চাপ কমে গেছে, অনেক স্থানে চুলা জ্বলছে না। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার সকালের চিত্র। ছবি: রাইজিংবিডি

এদিকে, জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত চালুর জন্য বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। টার্মিনালের অক্ষত অংশ সচল করা গেলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টার্মিনাল সচল না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে গ্যাসের নিম্নচাপ ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।