বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান সংকট হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া। এটা যদি বাস্তবায়ন না হয়, এই সংকট বাংলাদেশের রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনের আগে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, ১১ দলের পাঁচজন নারী সংসদ সদস্য এবং জোট নেতারা জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
মানবন্ধনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান সংকট হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া। এটা যদি বাস্তবায়ন না হয়, এই সংকট বাংলাদেশের রাজনীতিকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
স্পিকারের উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতা উভয়কে সঙ্গে নিয়ে গণভোটে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ ভাগ জনগণের রায় বাস্তবায়নে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
গোলাম পরওয়ার জানান, স্পিকার তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি নিরপেক্ষ-তবুও তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না করে পার্লামেন্ট চালাবেন, জনগণ এটা মানবে না। ক্ষমতায় বসে জনগণের মতকে উপেক্ষা করে চলবেন, এটাও বাংলাদেশ হতে দেবে না।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে আরও একটি জুলাই বিপ্লব হবে বলেও হুশিয়ারি দেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি আরও বলেন, ‘বিচারের দাবি জানিয়েছি, বিচার করতে হবে। যদি বিচার না করেন, তাহলে জনগণ আপনাদের বাধ্য করবে। কারণ আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, ক্ষমতায় বসে আছেন রক্তাক্ত জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। আমরা আন্দোলন চাই না, সমাধান চাই।’
মানববন্ধনে আরও অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম আহবায়ক আবদুল ওহাব মিনার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজিসহ আরও অনেকে।








