রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুর বিভাগীয় আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে বুধবার দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। গণঅনশনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকশ আলুচাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অনেককে কাফনের কাপড় পরে অংশ নিতে দেখা যায়। এতে উপস্থিত ছিলেন-রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সহসভাপতি তসলিম উদ্দিন, আলুচাষি ও ব্যবসায়ী হাফেজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আলুচাষি আবু তাহের, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আলু উৎপাদনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে রংপুরের হিমাগারগুলোতে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী এলাকায় একই সেবার জন্য প্রতি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

আলু ব্যবসায়ী তৈয়বুর রহমান বলেন, একই দেশে একই ধরনের সেবার জন্য একেক অঞ্চলে একেক ধরনের ভাড়া নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রংপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে হিমাগার ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আরেক ব্যবসায়ী তসলিম উদ্দিন বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষক এমনিতেই লোকসানের মুখে। এর ওপর অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়া কৃষকদের আরও সংকটে ফেলছে। দ্রুত তদন্ত করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না করলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি করে হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। পরে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন মিয়া অনশনকারী আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের জুস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান।

তিনি বিষয়টি নিয়ে হিমাগার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।