রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পোলট্রি মুরগির ডিমের দাম। সেইসঙ্গে দাম কমেছে কিছু সবজিসহ চাল, পেঁয়াজ ও মুরগির। তবে দাম বেড়েছে কাঁচামরিচ ও বেগুনের। এছাড়া আটা, ময়দা, ডাল ও মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতো ১৫০-১৬০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা থেকে কমে ৩২০-৩৩০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা থেকে কমে ২৮০-৩০০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার গত সপ্তাহের মতোই ৩৩০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০-৬০০ টাকা থেকে কমে ৫৫০-৫৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি ৩৫-৩৬ টাকা থেকে কমে ৩২-৩৪ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
লালবাগ বাজারের মুরগি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেশ কিছুদিন থেকে স্থিতিশীল রয়েছে। দাম স্বাভাবিক থাকলে বিক্রি বাড়ে।’

শাপলা বাজারের ডিম বিক্রেতা সাজু মিয়া বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম আরও কমেছে। ছোট সাইজের ডিমের হালি ৩২-৩৩ টাকা ও বড় সাইজেরটা ৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাস আগেও ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।
এদিকে, সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো ১২০-১৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা, গাজর ২০০-২২০ টাকা থেকে কমে ১৮০-২০০ টাকা, কাঁকরোল গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা, ঝিংগা ৩৫-৪০ টাকা, চালকুমড়া প্রতিপিস (আকারভেদে) ২৫-৩০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫-৩০ টাকা, দুধকুষি ৩৫-৪০ টাকা থেকে কমে ৩০-৩৫ টাকা, সজনে গত সপ্তাহের মতোই ১৮০-২০০ টাকা, শসা ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা, লেবুর হালি আগের মতো ১০-১৫ টাকা, চিকন বেগুন ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা, গোল বেগুন ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা, পটল গত সপ্তাহের মতোই ২৫-৩০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, বরবটি ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, করলা গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৩০-৪০ টাকা, কচুরলতি ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা ১৩০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ১০ থেকে ২৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, শুকনো মরিচ আগের মতোই ৩৫০-৪০০ টাকা, কার্ডিনাল আলু গত সপ্তাহের মতোই ২০-২৫ টাকা, সাদা আলু গত সপ্তাহের মতোই ৩০-৩৫ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩০-৩৫ টাকা, শিল আলু ৪৫-৫০ টাকা এবং ঝাউ আলু ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা থেকে লাফিয়ে ১০০-১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা থেকে কমে ৩০-৩৫ টাকা, দেশি আদা ১৬০-১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকা, আমদানি করা আদা গত সপ্তাহের মতোই ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি রসুন আগের মতো ১০০-১২০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ২০০-২২০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুলাটোল বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল মজিদ ভুট্টু বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে দুই-একটি সবজির দাম বাড়লেও অনেক সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কাঁচামরিচের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। গতকাল ৭০/৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। আজ পাইকারি বাজারে ৯০/১০০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় আমদানি সংকট হয়েছে। এ কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী।

এদিকে, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫-২১০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১০৫-১১০ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০ টাকা, খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের চাল কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা কমেছে। স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা থেকে কমে ৫৫-৫৮ টাকা, বিআর২৮এর দাম ৬৫-৭০ টাকা থেকে কমে ৬০-৬৫ টাকা, বিআর২৯- ৬০-৬৫ টাকা থেকে কমে ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৬০-৬৫ টাকা থেকে কমে ৫০-৬০ টাকা, মিনিকেট এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা থেকে কমে ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ ৩০০-৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, কারপু ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৮০-২৪০ টাকা, শিং ৩০০-৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০-২৬০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিতু কবীর/এফএ/এএসএম








