টানা বর্ষণের কারণে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পদদেশে বসবাসকারী মানুষদের দ্রুত অন্যত্র সরে যেতে মাইকিং করছে প্রশাসন। পাশাপাশি ২৮টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। 

রাঙামাটি পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদি, লোকনাথ মন্দির ছাড়াও আরো কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অসংখ্য পরিবার বসবাস করছে। অতীতে এসব এলাকার অনেকগুলোতেই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

আরো পড়ুন: কক্সবাজারে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৯ মৃত্যু 

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রবিবার (৫ জুলাই) সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পৌরসভা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসরত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে তাৎক্ষণিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে। 

রাঙামাটি শহরের শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা নূর জামান জানান, ‍যদি অতি ভারী বর্ষণ শুরু হয় কিংবা পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি পায়, তাহলে তারা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাবেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পৌর এলাকার ২৮টি স্থানকে পাহাড়ধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। 

রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসলাম সারোয়ার জানান, আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।