রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। থাইল্যান্ডে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি দেশে ফেরেন।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করবেন কি না—সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে পদত্যাগ করা হলে পরবর্তী আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়া কী হবে, সে সম্পর্কে সাংবিধানিক নিয়ম ব্যাখ্যা করেন স্পিকার।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ঢাকায় পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন না করবেন, সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করল, কী করল, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে। এই হলো সংবিধানের পজিশন।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চলা আলোচনার প্রসঙ্গ তুললে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা যে রকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। তিনি পদত্যাগ করলে সেই অনুযায়ী তারপর যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা থাকে, সেই জায়গাতে… এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ, সেটি তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটাই সংসদের অবস্থান।’

চিকিৎসা সফর সংক্ষিপ্ত করে নির্ধারিত সময়ের আগে দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্পিকার জানান, বৃহস্পতিবার তাঁর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ থাকায় তিনি দ্রুত ফিরে এসেছেন।

গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংকক যান স্পিকার। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা গতি পায়। ফলে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই স্পিকারের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও গুঞ্জন আরও জোরদার হয়।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন বলে নানা মহল থেকে আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবনের একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেছেন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন। তিনটি পৃথক সূত্রের বরাতে তারা এই খবর প্রকাশ করলেও বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলোর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের ২২ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ।