ইউরোপের সৃজনশীল ফুটবলের ঝলক দেখাতে উদ্গ্রীব বেলজিয়াম। আফ্রিকার অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক সেনেগালও ক্ষুধার্ত আরেকটি ইতিহাস লিখতে। রেডডেভিলদের সামনে এবার তেরেঙ্গার সিংহ। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এই প্রথম মুখোমুখি দুই দল। শেষ ষোলোতে যাওয়ার লড়াইয়ে আজ রাত ২টায় সিয়াটল স্টেডিয়ামে শুরু হবে হাইভোল্টেজ এই মহারণ।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। তবে তাদের পথচলা মসৃণ ছিল না। প্রথম ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র। দ্বিতীয় ম্যাচে ইরানের বিপক্ষেও গোলশূন্য সমতা। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় রুডি গার্সিয়ার দল।
অন্যদিকে সেনেগালের গ্রুপপর্ব ছিল উত্থান-পতনের। প্রথম দুই ম্যাচে ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে হেরে বিদায়ের শঙ্কায় থাকা সেনেগাল শেষ ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে। সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দল হিসাবে নিশ্চিত করে নকআউট পর্ব। সেই জয়ে ইতিহাসও গড়ে সেনেগাল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম আফ্রিকার কোনো দল এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার কীর্তি গড়ে।
ফিফা র্যাংকিংয়ের নবম স্থানে থাকা বেলজিয়ামের লক্ষ্য আরও এগিয়ে যাওয়া। ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া দলটি ২০২২ আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে তারা। দলে রয়েছেন বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের তিন বড় তারকা থিবো কোর্তোয়া, রোমেলু লুকাকু ও কেভিন ডি ব্রুইনা। জাতীয় দলের জার্সিতে হয়তো শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন তারা। তাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার বাড়তি প্রেরণা থাকবে। সেনেগালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ সাফল্য ২০০২ আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল। এবার সেই অর্জনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তাদের।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আফ্রিকার নয়টি দলের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে। মহাদেশের আশা সেনেগালের কাঁধে। দুই দলের এটি হবে ইতিহাসের প্রথম মুখোমুখি লড়াই। তাই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। বেলজিয়ামের গোলপোস্টে থাকবেন অভিজ্ঞ থিবো কোর্তোয়া। চোট কাটিয়ে জেনো ডেবাস্টও ফিরতে পারেন একাদশে। আক্রমণভাগে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনা, জেরেমি ডোকু ও চার্লস ডি কেটেলারের ওপর আস্থা রাখবেন কোচ রুডি গার্সিয়া। সেনেগালের বড় দুশ্চিন্তার নাম গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্দি। হাঁটুর চোটের কারণে তার খেলা অনিশ্চিত। ফলে রক্ষণভাগে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। আক্রমণে দলের মূল ভরসা থাকবেন ইসমাইলা সার, সাদিও মানে ও নিকোলাস জ্যাকসন। কাগজে-কলমে এগিয়ে বেলজিয়াম। মাঝমাঠে ডি ব্রুইনার সৃজনশীলতা, আক্রমণে বৈচিত্র্য এবং অভিজ্ঞতার কারণে রেডডেভিলদের এগিয়ে রাখতে হচ্ছে। তবে সেনেগালের গতি, শারীরিক সামর্থ্য এবং দ্রুত পালটা আক্রমণের ক্ষমতা যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই উত্তেজনা ও রোমাঞ্চের কোনো ঘাটতি থাকার কথা নয়।








