বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে শুধু উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা নয়; আশপাশের বিভিন্ন জেলার ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা পেতেন। দীর্ঘ তিন বছর ধরে রেডিওথেরাপি মেশিনটি বিকল থাকায় রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের অধিক অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে মেশিনটি চালু বা পুনঃস্থাপন করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শজিমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপির একমাত্র লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিনটি ২০২৩ সালের আগস্টে বিকল হয়ে যায়। এরপর নানা কারণে মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি। যেদিন মেশিনটি বিকল হয়, সেদিন হাসপাতালে রেডিওথেরাপি দিতে আসা রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৯ জন। এভাবে এখানে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগীকে রেডিওথেরাপি দিতে হতো। মেশিনটি নষ্ট হলে ঠিক করার জন্য মন্ত্রণালয় অনুমোদনও দিয়েছিল। মেশিনটির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিমেন্স কোম্পানি জানিয়ে দেয়, এটি মেরামতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লাগবে। আর ঠিক করলেও বেশিদিন সার্ভিস দিতে পারবে না। এরপর মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে আর অগ্রসর হননি।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের এ ক্যানসার বিভাগে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের তথা উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ছাড়াও যশোর, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও রোগী আসতেন। কারণ শজিমেক হাসপাতাল ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সরকারি আর কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিওথেরাপি মেশিন নেই।

শজিমেক হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোবাশ্বের উর রহমান বলেন, ক্যানসার আক্রান্ত প্রায় ৭০ ভাগ রোগীকে রেডিয়েশন থেরাপি দিতেই হয়। সরকারি হাসপাতালে একেকটি রেডিয়েশন থেরাপির বা রেডিওথেরাপি পুরো কোর্সে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে বেসরকারি হাসপাতালে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করতে হয়। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বানিয়াপাড়ার আবদুল হক তার ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রী মর্জিনা খাতুনকে রেডিওথেরাপি দিতে সম্প্রতি বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে আসেন। প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে এসে জানতে পারেন, রেডিওথেরাপি মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে। বেসরকারি ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ বেশি। সামর্থ্য না থাকায় এখানে এসেছিলেন।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সাইদুজ্জামান বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালে রেডিওথেরাপি দিতে প্রতি ডোজে (এক্সপোজার) দুই হাজার টাকা লাগে। এখানে লাগত ২০০ টাকা। শজিমেক হাসপাতালে তার বাবার চিকিৎসা করাতেন। থেরাপি মেশিন বিকল থাকায় বাবার চিকিৎসা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. ওয়াদুদুল হক তরফদার বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রেডিওথেরাপি মেশিনটি বিকল হয়ে যায়। এরপর মেশিনটি মেরামত বা পুনঃস্থাপনে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকার এআই বেস রেডিওথেরাপি মেশিন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে শিগ্গিরই টেন্ডার হবে। সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে আমদানির পর বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল ও ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অত্যাধুনিক মেশিনটি স্থাপন করা হবে। এ অঞ্চলের ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা আপাতত বগুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং দেশের অন্য স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।