ঋণের চাপ সামলাতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাসিন্দা মো. রাশেদুল আলম (৩৮)। এ ঘটনায় তার দুই সহযোগী মো. ইমরান হোসেন (৩৫) ও মো. ইব্রাহিম ওরফে বাপ্পিকেও (৩২) আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার দক্ষিণ রাজানগর এলাকা থেকে রাশেদুলকে উদ্ধার করে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। রাশেদুল হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের মনিয়া পুকুরপাড় এলাকার আবুল কালামের ছেলে।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, গত ১ জুলাই রাশেদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার স্ত্রী রীনা আক্তার (৩২) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির দুই দিন পর তিনি থানায় একটি ভিডিও দেখান, যেখানে দুই ব্যক্তি রাশেদুলের গলায় রামদা ধরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করতে দেখা যায়।
ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এটি পরিকল্পিত অপহরণের নাটক। এরপর অভিযান চালিয়ে রাশেদুলকে উদ্ধার এবং তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ভিত্তিতে টানা দুইদিনের অভিযানে রাঙ্গুনিয়া থানার দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকায় রাশেদুলের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার সকালে রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকা থেকে রাশেদুলকে উদ্ধার করে। একই সময় তার দুই সহযোগী ইমরান হোসেন এবং ইব্রাহিম ওরফে বাপ্পিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাশেদুলের বক্তব্য উদ্বৃত করে ওসি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে রাশেদুল অপহরণের শিকার হননি। এলাকার অনেকের কাছে রাশেদুল ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদারদের চাপ থেকে সামলাতে তিনি আত্মগোপনে যান। পরে দুই সহযোগীর সহায়তায় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভিডিও বানিয়ে মুক্তিপণের জন্য পরিবারের কাছে ভিডিওটি পাঠান।’
এমডিআইএইচ/এমএএইচ/








