পাঁচ দিনের সফরে বুধবার ঢাকায় এসেছেন জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। তার এই সফরে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন, ঋণের বিপরীতে সুদ হার কমানো, দেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের মতো বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিনেই বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন জাইকা প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি সম্প্রতি জাইকার ঋণের সুদ হার বৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলেছে। গত এপ্রিল থেকে জাইকার নতুন ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। কারণ জাইকার অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি জাপান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য জাইকার ঋণের সুদ হার পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগামী দিনে অর্থমন্ত্রীর সম্ভাব্য জাপান সফরেও এটি অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। এদিকে, জাইকার প্রেসিডেন্টের সম্মানে বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু। সেখানে জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প, নতুন ঋণ, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জাপানি বিনিয়োগ সম্প্র্রসারণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈদেশিক ঋণের ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ঋণ এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। তবে জাইকা প্রেসিডেন্টের এই সফরে নতুন ঋণের ঘোষণা না এলেও ভবিষ্যৎ অর্থায়নের কাঠামো, ঋণের শর্ত এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে জানা গেছে।
জাইকা প্রেসিডেন্টের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী সফর। জাপানের ঋণ ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করবেন জাইকা প্রেসিডেন্ট। এরপর ৪ জুলাই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন তিনি। সফরের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার নিহত জাপানি নাগরিকদের স্মরণে তিনি গুলশানের আলোচিত হোলি আর্টিসান বেকারি পরিদর্শন করবেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মধ্যে সাতজন জাপানি নাগরিক ছিলেন। সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক অত্যন্ত আস্থার। বৈশ্বিক সুদের হার বেড়েছে ঠিকই, তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় জাইকার ঋণের শর্ত কিছুটা নমনীয় হওয়া প্রয়োজন।








