সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামীকাল রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববারের এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ।
সফরসূচি অনুযায়ী, সফরের শুরুতে মহেশখালীতে গিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বাঁশখালীর বাহারছড়ায় গিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহারা ১০০ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন তিনি।
পরবর্তীতে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন তিনি। এরপর হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। পরে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর পুনর্নির্মাণের অর্থ ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা তুলে দেওয়া হবে।
সফরের শেষ পর্যায়ে রাতে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচ তারকা হোটেলে রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপি ও ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সভায় মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতাকর্মী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম সাংবাদিকদের বলেন, তিন সাংগঠনিক ইউনিটের বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেবেন। নগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। ওই বৈঠক শেষে রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় সাজসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়েছে। উপজেলার পাইন্দংয়ের পেলাগাজী দিঘী হেলিপ্যাড থেকে বাবুনগর মাদরাসা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। সফরস্থল ও সংশ্লিষ্ট সড়কে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না তাঁরা। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন দাবির বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফটিকছড়ির উন্নয়নের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা, কয়েকটি কলেজ সরকারীকরণ, স্থানীয় গ্যাস সম্পদের সুষম বণ্টন, চা ও রাবার বাগানে শিল্পভিত্তিক গ্যাস সংযোগ এবং অব্যবহৃত খাসজমিতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার বিষয় রয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে পুরো উপজেলায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। দলমত–নির্বিশেষে মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে সড়কের পাশে দাঁড়াবেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের কয়েকটি ভেন্যুতে সফর করবেন। এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভেন্যু ও সড়ককেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রামে আসছেন। তাঁর সফর নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
নগর ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ও হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম চট্টগ্রাম সফর। এর আগে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি। ২০০৫ সালেও দলীয় কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তারেক রহমান।








