কয়েক দিন আগে একটি সিনেমার প্রিমিয়ারে বেগুনি রঙের গাউন পরে হাজির হন ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এ মুহূর্তের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপর শুরু হয় চর্চা। বডি শেমিং থেকে এজ শেমিং—সবকিছু নিয়ে রীতিমতো কটাক্ষের মুখে পড়েছেন ‘প্রাক্তন’ অভিনেত্রী। অশ্লীল মন্তব্য থেকে রসিকতা কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না।
‘ঠোঁটকাটা স্বভাবের’ ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। টলিউডের স্বজনপোষণ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি নিয়ে ঋতুপর্ণার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন এই অভিনেত্রী। তারপর থেকে তাদের মাঝে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে। ঋতুপর্ণার এ পরিস্থিতি নীরবতা ভাঙলেন শ্রীলেখা।
ঋতুপর্ণা তার এই সাজপোশাক নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের কবলে পড়েছেন
ঋতুপর্ণার সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্মরণ করে প্রথমে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “ঋতু (ঋতুপর্ণা) সামনাসামনি আমার সঙ্গে কখনো খারাপ ব্যবহার করেনি। সুতরাং আমি বলব না, ‘ও আমার সঙ্গে এমনটা করেছে’। সম্প্রতি রাগের মাথায় অনেকের সম্পর্কে অনেক কথা বলেছি! কারণ আমি ঘটনাগুলোর ভুক্তভোগী ছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, এসবের জন্য এরা দায়ী।”
ঋতুপর্ণার পোশাক ও ভাইরাল ছবি নিয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “সত্যি বলতে ঋতুর ছবিগুলো দেখে আমারও ভালো লাগেনি। প্রথম যখন ঋতুর ছবি আমাকে কেউ পাঠায়, তা দেখে আমার মজাই লেগেছিল। কারণ যখন কেউ পড়ে যায়, তখন আমরা তাকে না তোলে বরং হাসি। সেই ফিলিং থেকে আমিও হেসেছিলাম। পরে বিষয়টি নিয়ে আমার খারাপ লেগেছে। মানুষ যেভাবে কথা বলছে, এভাবে না বললেও পারে।”
দ্বন্দ্বের মাঝে ঋতুপর্ণাকে নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন শ্রীলেখা
অভিনেত্রীদের বয়স নিয়ে কটাক্ষের বিষয়টি স্মরণ করে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “অভিনেত্রীদের অ্যান্টি এজিং! এই অ্যান্টি এজিং কেন? সবাইকে একরকম দেখতে লাগবে কেন? নরমাল বয়সের সঙ্গে আমাদের সবকিছু ঝুলে যাবেই। হলিউড থেকে শুরু করে সবাইকেই ট্রলের শিকার হতে হয়েছে।”
বয়স বাড়লেই শাড়ি পরতে হবে তার সঙ্গে একমত নন শ্রীলেখা। তার মতে—“আমি বলছি না, বয়স অনুযায়ী শাড়িই পরতে হবে। আমি আজকেও তো একটা মিনি স্কার্ট পরেছি। আমার ভালো লেগেছে, তাই পরেছি। বয়স অনুযায়ী পোশাক পরতেই হবে, তা আমি মানি না। আমার তো উদযাপন করার ইচ্ছে হতে পারে। মানুষের বয়সের সঙ্গে কি সব স্বাদ-আল্লাদ চলে যাবে নাকি? ঋতু যদি সেলিব্রেট করে, তাতে তো কোনো দোষ নেই।”
দুই বাংলার দর্শকদের কাছে আজও জনপ্রিয় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
ঋতুপর্ণার আশেপাশের মানুষের দায়িত্ব জ্ঞান নিয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “আশেপাশের মানুষগুলো বেশি পরিতুষ্ট দেখায়। ঋতু যখন পোশাকটি পরেছে, তখন ওর পাশের মানুষও ওকে বলেছে, ‘দেখতে তোমাকে ভালো লাগছে।’ তার আশেপাশে যারা থাকেন, তাদের বলা উচিত—‘এই পোশাকে তোমাকে ভালো লাগছে না, অন্যকিছু পরো।’ আমার মনে হয়—এই সততা আমাদের মধ্যে অনেক কমে গেছে। সবাই সবাইকে খুব খুশি করে চলে। আমি যদি ঋতুর সঙ্গে কথা বলতে পারতাম, তবে ওকে জিজ্ঞাসা করতাম, ‘তুমি কেন এটা পরেছিলে?”







