যে যাই বলুক, নরওয়ের হলান্ডকে নিয়ে চাপে থাকেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় আর সমর্থকেরা। এদিকে তিনি কিন্তু টেক্সাসে গিয়ে খোশমেজাজে মেতে আছেন কাউবয় শপিং স্প্রি নিয়ে।
বিশ্বকাপ মানেই চাপ, কৌশল আর জয়ের লড়াই। রাউন্ড অব ৩২-এর শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে প্রতিটি দলের শিবিরে এখন চলছে আরও কঠোর প্রস্তুতি। অনুশীলনের তীব্রতা বেড়েছে, কৌশলগত পরিকল্পনাও হচ্ছে আরও নিখুঁত। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও জীবনকে উপভোগ করতে ভুলছেন না নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। মাঠে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক ‘ভাইকিং হাল্ক’, আর মাঠের বাইরে প্রাণখোলা হাসি, রসবোধ আর সহজ-সরল ব্যক্তিত্বে একেবারেই ভিন্ন মানুষ। যে যাই বলুক, নরওয়ের হলান্ডকে নিয়ে চাপে থাকেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় আর সমর্থকেরা। এদিকে তিনি কিন্তু টেক্সাসে গিয়ে খোশমেজাজে মেতে আছেন কাউবয় শপিং স্প্রি নিয়ে।
View this post on Instagram
ফুটবল তারকা হিসেবে তিনি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। তবে ফুটবলের বাইরেও তাঁর আগ্রহের পরিধি বেশ বিস্তৃত। হ্যান্ডবল ও গলফ তাঁর প্রিয় খেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্ট্যান্ডিং লং জাম্পে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। দুর্দান্ত স্ট্রাইকার হওয়ার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল কনটেন্ট নির্মাতাদের একজনও হলান্ড। মাঠের বাইরের জীবনের নানা মুহূর্ত নিয়মিত ভাগ করে নেন ভক্তদের সঙ্গে।
ব্রাজিলের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর মহারণকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে পৌঁছেছে নরওয়ে দল। তার আগে টেক্সাসে অনুশীলনের ফাঁকে স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নিতে বেরিয়ে পড়েন হালান্ড। টেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী কাউবয় পোশাক, স্টেটসন টুপি আর চামড়ার বুট পরে একেবারে স্থানীয়দের মতো সেজে ওঠেন তিনি। কেনাকাটার ফাঁকে সতীর্থদের সঙ্গে খুনসুটি, দোকানকর্মীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপ আর টেক্সাসের মানুষদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হওয়ার মুহূর্তগুলো ধরা পড়েছে তাঁর সর্বশেষ বিশ্বকাপ ভ্রমণভিত্তিক ভিডিওতে। মাঠের বাইরের এই নির্ভার হলান্ড যেন মনে করিয়ে দেন, বিশ্বকাপের তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝেও জীবনকে উপভোগ করার জন্য একটু হাসি আর কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের বিকল্প নেই।
ভিডিওর শুরুতেই কাউবয় টুপি মাথায় দিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখে হলান্ড হেসে বলে ওঠেন, "আমাকে তো একেবারে সত্যিকারের কাউবয়ের মতো লাগছে!" এরপরই শুরু হয় টুপি, বুট আর চামড়ার নানা সামগ্রী নিয়ে প্রাণখোলা আড্ডা। মজা করেই তিনি জানতে চান, সাপের চামড়ার বুট বা টুপি আছে কি না। তাঁর এমন প্রশ্নে দোকানজুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়।
View this post on Instagram
দোকানের কর্মীরা একের পর এক বিভিন্ন ধরনের স্টেটসন টুপি এনে তাঁকে পরিয়ে দেখতে দেন। কালো, ধূসরসহ নানা রঙের টুপি পরে আয়নার সামনে নিজেকে দেখছিলেন নরওয়েজিয়ান এই তারকা। পাশে থাকা সতীর্থরাও সুযোগ ছাড়েননি। হাসতে হাসতেই একজন বলে ওঠেন, "তোমাকে এখন স্ট্রাইকারের চেয়ে কাউবয়ই বেশি লাগছে!"
কাউবয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কিছু মজার বিশ্বাসও জানতে পারেন হালান্ড। দোকানের একজন কর্মী তাঁকে জানান, টুপি কখনো উল্টো করে রাখা উচিত নয়। এতে যেমন টুপির আকৃতি নষ্ট হয়, তেমনি স্থানীয়দের বিশ্বাস, উল্টো করে রাখলে সৌভাগ্যও টুপির সঙ্গে সরে যায়। কথাটি শুনে হালান্ড সঙ্গে সঙ্গে টুপিটি সোজা করে রেখে হেসে বলেন, "তাহলে ভাগ্যটা সঙ্গে রাখাই ভালো।"
কেনাকাটার সময় শুধু নিজের কথাই ভাবেননি তিনি। ছেলের জন্যও একটি স্মারক খুঁজছিলেন। টেক্সাসের জনপ্রিয় স্লোগান লেখা একটি টি-শার্ট তাঁর নজর কাড়ে। পাশাপাশি নিজের জন্যও বেছে নেন কয়েকটি মজার বার্তা লেখা পোশাক।

তবে তাঁর নতুন কাউবয় সাজ নিয়ে সবাই যে মুগ্ধ, তা নয়। একজন সতীর্থ মজা করে বলে বসেন, টুপিটা মোটেও ভালো লাগছে না। জবাবে হালান্ডও হেসেই বলেন, "আমি যখন এসব কিনি, তখন সবাই সমালোচনা করে। কিন্তু আমি গোল করলেই সবাই চুপ হয়ে যায়।" কাউবয় পোশাকে নিজেকে এতটাই স্বচ্ছন্দ লাগছিল যে রসিকতা করে তিনি বলেন, এখনই চাইলে জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ইয়েলোস্টোন-এ অভিনয় করতে নেমে যেতে পারেন।
তবে কেনাকাটার চেয়েও বেশি যেটি তাঁর মনে দাগ কেটেছে, সেটি হলো টেক্সাসের মানুষ। তাদের আন্তরিকতা, প্রাণবন্ত স্বভাব এবং ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করে হালান্ড বলেন, "সবাই এত বন্ধুসুলভ। তারা জীবনটাকে সত্যিই উপভোগ করে। এখানে এসে সেটা খুব কাছ থেকে অনুভব করেছি।" বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও টেক্সাসে কাটানো এই সময়টিকে জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা বলেই মনে করছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।

তবে শুধু টেক্সাসেই নয়, মাঠের বাইরের প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের কারণেও হলান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের কাছে আলাদা জনপ্রিয়। নিজের ভিডিওতে তিনি নিয়মিত নানা ধরনের মজার কনটেন্ট তৈরি করেন। কখনো চলচ্চিত্রের ভিলেন চরিত্র জোকারের আদলে সেজে হাজির হন, কখনো বড়দিন উপলক্ষে সান্তা ক্লজের পোশাক পরে ভক্তদের চমকে দেন। আবার কখনো রান্নাঘরে নেমে নিজের দেশের ঐতিহ্যবাহী স্যামন মাছ রান্না করতে দেখা যায় তাঁকে। ফুটবলের বাইরেও তাঁর এই সহজ-সরল, রসিক এবং প্রাণখোলা ব্যক্তিত্ব তাঁকে দিয়েছে এক ভিন্ন পরিচয়।
আজ ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জয় কার হবে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক চলবেই। তবে ফলাফল যাই হোক না কেন, বিশ্বকাপের এই সফরে নিজের স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ, হাস্যরস, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানুষকে আনন্দ দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা দিয়ে আর্লিং হালান্ড ইতোমধ্যেই জয় করে নিয়েছেন অসংখ্য দর্শকের হৃদয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও মাঠের গোলের পাশাপাশি টেক্সাসের সেই কাউবয় টুপি পরা হাসিখুশি হালান্ডকে নিশ্চয়ই মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম








