জুলাই আন্দোলন চলাকালে আদাবর এলাকায় পোশাক শ্রমিক রুবেল নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নবী নেওয়াজকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহেসানুল ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান সম্প্রতি নবী নেওয়াজকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শামসুর রহমান বাদল বলেন, রমনা থানার একটি মামলায় নবী নেওয়াজ উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। কিন্তু মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেই ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রুবেল হত্যা মামলার এজাহারে নবী নেওয়াজের নাম নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাকে এ মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ বলেও আদালতকে জানান।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের শেষ দিনে আদাবরের রিং রোড এলাকায় রুবেলসহ কয়েকশ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের গুলিতে রুবেল গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বর্তমানে জুলাই আন্দোলনের সময় রমনা এলাকায় গৃহকর্মী লিজা আক্তার হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন নবী নেওয়াজ। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তাকে ঢাকায় ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।
এমডিএএ/এসএনআর








