ফরিদপুরের সদরপুরের আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ৬০টি ঘরের ৩০ ঘরই মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব ঘরে ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও কেনাবেচা। প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদের সাহস পান না।

স্থানীয়রা জানায়, আকোটেরচর গুচ্ছগ্রাম-১ এবং ২ মিলে মোট ১৬০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে কমবেশি প্রায় ১৩০টি ঘরে পরিবার বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে ৩০টি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যথাযথ তদারকি না থাকায় এসব ঘরই এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিয়মিত আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

সন্ধ্যার পর বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবীরা এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হয়। শুধু স্থলপথ নয়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর থেকেও নৌকায় অনেকের যাতায়াত রয়েছে। নদী-সংলগ্ন হওয়ায় নদীপথ ব্যবহার করে সহজেই মাদক আনা-নেওয়া করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকের আসরে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করা হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে গ্রামে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও অন্যান্য অপরাধও বাড়ছে। আকোটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার উত্থাপন করেছি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’ এ বিষয়ে সদরপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ পেলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।’