সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নে একটি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বুধবার ভোরে ওই ইউনিয়নের রতনকান্দি দক্ষিণপাড়া হাটখোলাসংলগ্ন সেতুর নিচে হুরাসাগর নদীর মুখে বাঁধটি বন্যার পানির চাপে ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের ইরি-বোরো ধান রক্ষায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি নির্মাণ করেছিল। এ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হাবিবুল্লাহনগর, পোরজনা ও গালা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ঢুকে নিচু জমি প্লাবিত হয়েছে। পাঁচ দিন আগে নগরডালা সেতুর নিচে আরেকটি অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে হাবিবুল্লাহনগর, বেলতৈল, কৈজুরি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়।
রতনকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিন, সানোয়ার হোসেন, কাজি লাল ও রহম আলী জানান, হুরাসাগর নদীটি করতোয়ার শাখা। যমুনা, বড়াল ও করতোয়ার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রচণ্ড বেগে হুরাসাগর নদীতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এই পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে গেছে। তারা আরও জানান, কয়েকদিন আগেই জমির ধান উঠে যাওয়ায় ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে যাদের খড় শুকানো এখনো বাকি, তাদের অনেকের খড় মাঠেই রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কৃষকের খড় নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া জমিজমা সব ডুবে গেলে গরুর কাঁচা ঘাসও পাওয়া যাবে না। তখন গো-খামারিদের বাজার থেকে উচ্চমূল্যে দানাদার খাদ্য কিনে খাওয়াতে হবে। এতে গরুর দুধ উৎপাদন কমে যাবে। খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ফসল রক্ষায় রতনকান্দিতে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০০ ফুট বাঁধ এবং নগরডালায় প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০ ফুট বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এ বাঁধ নির্মাণের ফলে পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসলরক্ষা পায়।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সারমিন বলেন, ফসল রক্ষার্থে বাঁধ দুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যেই কৃষকের ফসল ওঠে গেছে। ফলে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।








