২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে আবারো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগই দেশের মানুষকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।”
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “প্রায় ১৫ বছরের দুঃশাসনের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে।”
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, “তাদের ত্যাগ আমাদের বাঁচার অধিকার দিয়েছে, মুক্তি দিয়েছে এবং স্বৈরশাসন থেকে পরিত্রাণ দিয়েছে।”
জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত যেমন একদিনে ঘটে না, তেমনি জুলাই আন্দোলনেরও দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এ আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, “দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা একটি রাজনৈতিক দল অনিয়ম, অন্যায় ও অবিচারের মাধ্যমে শাসন করেছে। এ সময় অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে কারাগারে হয়রানি করা হয়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, “স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরাও সন্তানদের আন্দোলনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। সেই আন্দোলনেই তরুণ আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, গুলি কর।”
তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভায় শহীদ আবু সাঈদ ও অন্যান্য শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা হয়।
স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহসানুল আজিজ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্ম সচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল্লাহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পটভূমি একদিনে তৈরি হয়নি। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া অপশাসনের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ধীরে ধীরে বিস্ফোরণে রূপ নেয়। ১৬ জুলাই আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিফের রক্তদানের মধ্য দিয়ে আন্দোলন নতুন গতি পায়।”
তিনি বলেন, “উন্নত স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারলেই জুলাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।








