শ্বাসরুদ্ধকর ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে টাইব্রেকারের নাটকে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পা রাখলো মিশর। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নিজেদের ভাগ্য যেন নিজেরাই ডেকে এনেছে সকারুজরা। ৪টি শটের মধ্যে দুটি মিস করে বসেন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলাররা, যার বিপরীতে মিশরের কোনো খেলোয়াড় ভুল করেননি। ফলে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠে আফ্রিকার পরাশক্তিরা। ​ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। প্রথমার্ধের ১৩তম মিনিটেই ইমাম আশুরের চমৎকার গোলে এগিয়ে যায় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ওমর মারমোশ, কিন্তু গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও তিনি বল পোস্টের বাইরে মারেন। মিশরের এই মিসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৫৫তম মিনিটে ভাগ্যের ছোঁয়ায় সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। সকারুজদের একটি ফ্রি-কিক থেকে বক্সে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি নিজের জালেই হেড করে বসেন। চলতি বিশ্বকাপে এটি হানির দ্বিতীয় এবং পুরো আসরের ১৩তম আত্মঘাতী গোল, যা বিশ্বকাপের এক আসরে নতুন রেকর্ড। ​গোল হজমের পর মোহাম্মদ সালাহ ও মারমোশরা আক্রমণের ধার বাড়ালেও অস্ট্রেলিয়ার শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিলেন না। ম্যাচের গতি ফেরাতে ৬৭তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর জায়গায় হাইসেম হাসান এবং হামদি ফাথির পরিবর্তে হোসাম আবদেলমাগুইদকে মাঠে নামান মিশর কোচ। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কৌশল বদলে তিনি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমাদের বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ আরও বাড়াতে হবে, রক্ষণভাগের ভুলগুলো এড়িয়ে চলো।" অন্যদিকে ৭৪ মিনিটে নেস্টরি ইরানকুন্ডা ও ক্রিস্টিয়ান ভলপাতোকে তুলে এনে মোহাম্মদ তুরে ও আজদিন হ্রুস্টিচকে মাঠে নামান অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ। তিনিও মাঠের সীমানা থেকে চিৎকার করে শিষ্যদের নির্দেশ দেন, "নিজেদের অর্ধে নেমে রক্ষণ শক্ত করো এবং ধৈর্যের সাথে সুযোগের অপেক্ষা করো।" ​ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই গোল করার মরিয়া চেষ্টা চালায়। ৮০তম মিনিটে ডিফেন্ডার করিম হাফেজকে তুলে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ত্রেজেগেকে মাঠে নামান মিশর কোচ হোসাম হাসান। ৮২তম মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউত্তারের হেড এবং ম্যাচের যোগ করা সময়ে মিশরের রামি রাবিয়ার শক্তিশালী হেড প্রতিহত করে দুই দলের গোলরক্ষকই জয়ের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখেন। ৯০+৬ মিনিটে সালাহর পাস থেকে হাইসেম হাসান বক্সের ভেতর শট নিলেও হ্যারি সাউত্তার তা দারুণভাবে আটকে দেন। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শট নেওয়া হ্যারি সাউটার বল বারের ওপর দিয়ে মেরে দেন এবং চতুর্থ শট নেওয়া লুকাস হ্যারিংটনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিপরীতে ৪টি শটের সবকটিতেই লক্ষ্যভেদ করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মিশর।