আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। অনেকে সামাজিক, ধর্মীয় ও বিভিন্ন জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এবারের ইউপি নির্বাচন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভিন্নমাত্রা পেতে পারে। দলীয় মনোনয়ন, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততাই প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠবে।
আমিরাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মুসলিম উদ্দিন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, আমিরাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসান, জামায়াত সমর্থিত ব্যবসায়ী মুহাম্মদ পেয়ারুসহ একাধিক নতুন মুখ।
লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে প্রার্থীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এখানে দুবারের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল ছবুর ও জামায়াত সমর্থিত আব্দুল কাইয়ুমের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। আধুনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, ব্যবসায়ী মাহমদুল হক বাবুল, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ ন ম নোমান ও ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান মাঠে কাজ করছেন।
চুনতি ইউনিয়নে বিএনপি নেতা নূর মুহাম্মদ, সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির হাফিজুল হক নিজামী, ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন কবির, কফিল উদ্দিন লিটু ও তরুণ উদ্যোক্তা মুহাম্মদ রেজাউল হক রেজার নাম আলোচনায় রয়েছে।
পদুয়া ইউনিয়নে বর্তমান প্যানেল চেয়াম্যান লিয়াকত আলি, জামায়ত সমর্থিত ইউপি সদস্য আমানুল হক, নুরুল ইসলাম সিকদার, কাজী জসিম উদ্দিন, কুয়েত প্রবাসী কাশেম, দক্ষিণ জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন ও বিএনপি নেতা আবুল হাশেম সক্রিয় রয়েছেন।
পুটিবিলা ইউনিয়নে মাঠের প্রচারে আছেন বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোছাইন, সাবেক চেয়ারম্যান এলডিপি নেতা ফরিদুল আলম, সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মুহাম্মদ ইউনুস, জামায়াত নেতা আবদুন নাঈম কাতেবী, আবুল মোজাফ্ফর, বিএনপি নেতা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও ফরহাদ হোসেন।
কলাউজান ইউনিয়নে বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান জামায়াত সমর্থিত মো. খোরশেদ আলম, জামায়াত নেতা নুরুল আলম নুরু, সাদ্দাম হোসেন, সাংবাদিক আব্দুর রহমান, সমাজকর্মী আব্দুস ছবুর, মনজুরুল আলম, বিএনপি নেতা মো. হেলাল উদ্দিন ও আব্দুল কাইয়ুম মাঠে সক্রিয়।
চরম্বা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাদাত উল্লাহ, ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেন, জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান শফি, মুহাম্মদ শোয়াইব ও মমতাজ উদ্দিন।
বড়হাতিয়া ইউনিয়নে গণসংযোগ করছেন সাবেক তিন বারের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা এমডি জোনাইদ চৌধুরী, যুবদলের সদস্য মো. নাছির উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য মামুনর রশিদ ও মাস্টার নাছির উদ্দিন। আলোচনায় আছেন জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও মুহাম্মদ ইউসুফ। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফৌজুল কবির ফজলু বলেন, জনবিচ্ছিন্ন, সুবিধাভোগী ও আদর্শবিচ্যুত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। তফসিল ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আ ন ম নোমান বলেন, আমরা এখনো সাংগঠনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তৃণমূলের সাংগঠনিক জরিপ শেষ করে জমা দিয়েছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।
লোহাগাড়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জহির উদ্দীন বলেন, লোহাগাড়ার ইউনিয়নগুলোতে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেরর পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের মাঠে দেখা যাবে।








