মাগুরা শহরে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই পানি জমে। গত তিনদিন যাবত বৃষ্টির কারনে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ। অতীতেও ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার এমন চিত্র দেখা গেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সরকারি হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের পেছনের এলাকায় দেখা যায় এক দিনের টানা বর্ষণে মাগুরার বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। সময় গড়ালেও পানি তেমন গড়ায়নি, রাস্তা ও ড্রেনের উপরও পানি।

পরিকল্পিত ড্রেনের সুব্যবস্থা না থাকায় বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাস্তার উপরে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক দোকান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রয়েছে।

কলেজ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা খন্দকার জাহিদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি ঢুকে, রাস্তার উপর হাটু পানি হওয়ায় চলাচল করা যায় না। নেই কোন ড্রেনের ব্যবস্থা, দ্রুত স্থায়ী সমাধান দরকার।’

সময় গড়ালেও গড়ায়নি পানি, জনজীবন বিপর্যস্ত

ভুক্তভোগী দোকানি হাফিজ মিয়া বলেন, ‘তিন-চারদিন যাবত দোকান খুলতে পারছি না, বৃষ্টির কারনে ঘরের ভেতরে পানি, রাস্তার উপর পানি। রাস্তার গর্ত দেখা যায় না। দ্রুত ড্রেনের ব্যবস্থা হলে খুবই উপকার হয়।’

কলেজ পাড়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম রিংকু বলেন, ‘অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সংকটের কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।’

অতি বৃষ্টিতে মাগুরা শহরের বিশেষ করে ৯নং ওয়ার্ড এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে জানান এলাকাবাসী।

মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারী বলেন, ‘ইতোমধ্যে পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০ কিলোমিটার ড্রেনেজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে পাঁচ কিলোমিটার কাজ চলমান আছে। আরও তিনটি প্রকল্পের আওতায় ২১ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া আছে।’

মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেজে/জেআইএম