ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সময় যত যাচ্ছে প্রিয়জনের ফিরে আসার সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হচ্ছে। ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। চাপা পড়া এসব মানুষকে জীবিত উদ্ধারে মঙ্গলবার শেষ মুহূর্তের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশ-বিদেশের উদ্ধারকারীরা। এএফপি।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে অন্তত ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ। তবে নিখোঁজদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। অন্যান্য সূত্রের ধারণা, নিখোঁজের এই সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি হতে পারে। রাজধানী কারাকাসের একমাত্র সরকারি কবরস্থানের দুটি চিতা ও চুল্লি দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা পূর্ণ ক্ষমতায় সচল রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে প্রতিদিন সেখানে ৬০ থেকে ৭০টি মরদেহ দাফন ও সৎকার করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের একটি ধসে পড়া ভবন থেকে নিজের পুরো পরিবারের মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন ৪২ বছর বয়সি সার্জিও ভারগারা। কবরস্থানে যখন তার ভাতিজার মরদেহটি দেওয়ালের খোপে সিলগালা করা হচ্ছিল, তখন তিনি হাঁটু গেড়ে মাটিতে ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ওকে আর ওর বাচ্চাদের বের করে আনাটা ছিল এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা।’ জাতিসংঘের তথ্যমতে, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সংস্থাটির অনুমান, কেবল লা গুয়াইরা রাজ্যেই প্রায় ১২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে। এর মাঝেই গত সোমবার ৪.৬ মাত্রার একটি নতুন ভূকম্পন (আফটারশক) স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে, মৌলিক সেবাগুলো ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।