ময়মনসিংহ-গৌরীপুর উপজেলা প্রধান সড়ক ঘেঁষে বহুতল ভবন, তোরণ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধিনে নির্মাণ কাজ করছে ময়মনসিংহের গণর্পূত বিভাগ। প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। কাজের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে হয়নি নির্মাণ কাজ। অভিযোগ রয়েছে, কাজ হচ্ছে নিম্নমানের। প্রধান সড়ক ঘেঁষে সীমানাপ্রাচীর ও গেইট নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের জীবনহানি ও সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নিত হবে। পূর্বদাপুনিয়ার আজিজুল হক, সাতুতি গ্রামের আব্দুল কদ্দুছ জানান, বিদ্যালয়টি খোলা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়ানো কোনো স্থান নেই। আর পরীক্ষার সময়ে নির্ধারিত সময়ের আগে ও পরে আসা পরীক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে হবে প্রধান সড়কে। একই গ্রামের রুহুল আমিন জানান, সামনে ড্রেনেরও স্থান নেই। পার্শ^বর্তী ভবন গৌরীপুর পৌরসভা। মূল সড়ক থেকে প্রায় তিন ফুট দূরত্বে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছে। একটি গাড়ির জন্য অপেক্ষা করলেও এ টুকু স্থান প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যানবাহন উঠা-নামা ও শিক্ষকদের আসা-যাওয়ার জন্য সীমানাপ্রাচীর ও প্রধান সড়কের মধ্যবর্তী স্থান রাখা উচিত। এ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীর বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, ভবনের পিলারগুলোতে ফুটোফুটো রয়েছে, ব্যবহৃত রডেও জং ধরেছে। জানা যায়, বস্ত্র অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বিদ্যমান ৭টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের উন্নয়ন ও নতুন ৬টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট স্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের অধিনে এ উন্নয়ন কাজ চলছে। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধিনে এর প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ২২ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ১৯৩ টাকা। ঢাকা মোহাম্মদপুরের অনিক ট্রেডিং অ্যান্ড কন্সট্রাকশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয় ২০ কোটি ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকায়। এক বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাইট বুঝিয়ে দেন ২০২৫ সনের ৪ জুন। সরেজমিন দেখা যায়, বিশাল ভবনে মাত্র ৭-৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। গণপূর্ত বিভাগের কোনো কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত নেই। কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। এ প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয় গত ৩ জুন তারিখে। নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে ভাড়া বাসায়। এজন্য টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটকে প্রতিমাসে গুনতে হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা। এ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ মাহমুদ জানান, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ বিষয়ে আপত্তি এসেছিল। পূর্বে সীমানা থেকে এক ফুট ছেড়ে তোরণ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যাশী সংস্থা হলো পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবেই কাজ করতে হবে। টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের সুপার প্রকৌশলী আসিফ হাসান জানান, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা পৌরসভা ও ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পৌরসভার দেওয়াল বরাবর করতে বলা হয়েছিল তবে কর্তৃপক্ষ বলছে এক ফুট ছেড়ে করতে বলেছে। আমরা সেভাবেই করতে বলেছি। নিজেদের ভবন উঠতে না পারায় প্রতিমাসে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে হচ্ছে। ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপ-প্রকৌশলী হাসান ইমাম জানান, বৃষ্টির কারণে রডের রঙের পরিবর্তন হয়েছে, মরিচাযুক্ত কোনো রড ব্যবহার করা হচ্ছে না। আর জমির মালিক টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট, তারা যা চান, সেইভাবে কাজ হচ্ছে।
সড়ক ঘেঁষে ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গৌরীপুর-ময়মনসিংহের প্রধান সড়কের যে সীমানা রয়েছে, সেই সীমানা থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্বে সীমানাপ্রাচীর ও গার্ডরুম করতে বলে এসেছি। গৌরীপুর পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা জানান, ওই প্রতিষ্ঠানটিও পৌরসভার ভবনে সঙ্গেই, তাই এ ভবনের সঙ্গে মিল রেখে যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সেভাবে নির্মাণ কাজ করতে বলা হয়েছে।







