সংবিধান সংশোধন ছাড়া জাতিকে নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে। এ জন্য সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সব অংশীজনের মতামত নিয়ে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল আনা হবে।”

সোমবার, (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের পর বিরোধী দলের ওয়াকআউটের প্রেক্ষাপটে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিরোধী দল যে কারণে ওয়াকআউট করেছে, সেটি তাদের বিবেচনায় সঠিক হতে পারে। তবে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই। পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল না হলে বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন এবং সংসদের কার্যক্রমও একই সংবিধান অনুসারেই চলছে। তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।” এ ধরনের শপথকে “নাল অ্যান্ড ভয়েড” এবং অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গণভোটের রায়কে সরকার সম্মান করে। তবে, সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধানে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত হওয়ার পরই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বা এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল জুলাই আদেশের ভিত্তিতে। ওই আদেশের বৈধতা বর্তমানে বিচারাধীন।” 

তিনি বলেন, “জনগণ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিয়েছে। ফলে সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার জাতীয় সংসদেরই।”

সদ্য গঠিত সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে সুপারিশ তৈরি করে সংসদে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ওয়াকআউট বা আবেগনির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে সংসদীয় কমিটিতে এসে আলোচনা ও মতামত দিলে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।”