‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলতে সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলেই আমরা সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বসতি গড়ে তুলতে পারব। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
নবজাতকের জন্মের স্মৃতি হোক বৃক্ষরোপণে এমনটা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই অবগত আছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকা শহরকে যত সবুজ দেখতাম, এখন বোধহয় দেখি না। এটার সঙ্গে নিশ্চয়ই আপনারা এই ঘরে উপস্থিত কেউ আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন না।
তিনি বলেন, একটি পরিবারে নতুন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সেটি আমাদের নিজেদের হোক কিংবা আত্মীয়স্বজনের হোক, আমরা যদি সবাই মিলে তার আগমনকে উপলক্ষ্য করে একটি গাছ রোপণ করি, তাহলে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদ্যাপন করা যায়, স্মরণ রাখা যায়। এক নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছ যেমন বেড়ে উঠবে, সেই ছোট্ট শিশুটিও আস্তে আস্তে বেড়ে উঠবে এবং এভাবেই সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন সফলতা লাভ করবে।
সবুজায়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবে আমরা অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা সরকার গঠন করার পর প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলেন্টিয়ারিজম’ চালু করার একটা পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি আরও জানান, একই সঙ্গে ‘ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ’ চালু এবং ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড’সহ বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর সফল বাস্তবায়ন করতে পারলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি। তবে ইচ্ছামতো গাছ রোপণ করলে এই লক্ষ্য সফল হবে না। কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কী ধরনের আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা প্রয়োজন, সেটি সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকতে হবে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক গাছগুলোকে অবশ্যই পরিহার করতে হবে। নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয় বনজ, ফলদ বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা খুবই দরকার।
প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, কক্সবাজারে একটি ট্রেনলাইন গিয়েছে চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী-ডুলাহাজারি হয়ে। ডুলাহাজারিতে রেলপথ করতে গিয়ে কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যদিও সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, সেখানে ৭ লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। সপ্তাহ তিনেক আগে তাদের বললাম, আপনাদের রিপোর্টটা দেখি কোথায় ৭ লাখ গাছ আপনারা রোপণ করেছেন। পরে আমি আমার মতো করে ভেরিফাই করে দেখেছি সেখানে আসলে ৭ লাখ গাছ নেই। হার্ডলি ওখানে ২ লাখ গাছ হবে। যেটি খুব দুঃখজনক।
‘ঢাকা বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায়’ প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে এসেছি। আমার মনে হয়, এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সবার সিরিয়াসলি না ভেরি, ভেরি সিরিয়াসলি বোধহয় চিন্তা করার সময় চলে এসেছে। এখানে আজকে আমরা যারা বৃক্ষরোপণই হোক বা পরিবেশের বিষয় হোক একত্রিত হয়েছি আমাদের সবার উচিত হবে এই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে যখন যে পরিস্থিতিতে যে পরিবেশে আমাদের সুযোগ হয় প্রত্যেকটি মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম।
অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে ছিল না প্রধানমন্ত্রীর ছবি : বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে এই পরিপাটি অনুষ্ঠানে ছিল ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো গোছানো আয়োজন। শুধু কোথাও ছিল না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি। অনুষ্ঠানে অতিথিদের অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে বিষয়টি। সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সোলায়মান নিলয় বলেন, ‘দুদিন আগেই পত্রিকায় একটি নিউজ দেখেছিলাম যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন যে, সরকারি অনুষ্ঠানে তার ছবি যেন ব্যবহার না করা হয়। তার নির্দেশের প্রতিফলন আজকের অনুষ্ঠানে দেখছি। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ-সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।








