ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি আবারও আলোচনায়। এবার নিজের সন্তানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ট্রল ও কটূক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি নিজের অবস্থান এবং শিল্পীদের দায়িত্ব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মাহি। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘অসভ্য মুরাদ ও বিহারীদের গাত্রদাহ। সবাইকে একবার শুনার অনুরোধ জানাচ্ছি, এটা একটা নায়িকা না, একজন মায়ের অনুরোধ।’ ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভিডিওর শুরুতেই সন্তানকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন মাহি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু একটি নিষ্পাপ শিশুকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানানো কোনো সভ্য সমাজের আচরণ হতে পারে না।
আরও পড়ুন
জয়াকে নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’
মাহির ভাষায়, ‘আমার মনে হয় আপনারা মানুষ না, অমানুষ। যদি মানুষ হতেন, তাহলে একটা ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে কথা বলতেন না। একটা নারীকে এভাবে অসম্মান করতে পারতেন না। রাজনীতি একটা বিষয়, আর একটা শিশুকে নিয়ে ট্রল করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন, যেটা আপনারা জানেন না। আবার আমার ছোট্ট সন্তানকেও ছাড়ছেন না। একটা মাসুম বাচ্চাকে নিয়ে ট্রল করছেন, বুলিং করছেন। আপনাদের ভয় করে না? আপনাদের আল্লাহর ভয় নেই?’
সন্তানকে নিয়ে ট্রলের কারণে একজন মা হিসেবে কতটা কষ্ট পেয়েছেন, সেটিও তুলে ধরেন মাহি। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চা দেখতে যেমনই হোক, আমার কাছে সে রাজপুত্র। আমার সন্তানকে যেভাবে বুলিং করা হয়েছে, আল্লাহ সেটা সহ্য করবেন না। এটা একজন নায়িকা হিসেবে নয়, একজন মা হিসেবে বলছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি কাউকে অভিশাপ দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু একজন মায়ের কষ্ট থেকে অনেক কথা বেরিয়ে আসে। তারপরও আমি চাই, যারা আমার সন্তানকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন, আল্লাহ যেন তাদের সন্তানদের সুস্থভাবে পৃথিবীতে আনেন।’
ভিডিওতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দেন মাহি। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা কিংবা ট্রল করে কেউ তাকে তার বিশ্বাস থেকে সরাতে পারবে না।

তার ভাষায়, ‘আপনারা কি ভেবেছেন, আমাকে বুলিং করলে আমি আওয়ামী লীগ নিয়ে কথা বলব না? শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলব না? তা কখনো হবে না। আমি শেখ হাসিনার কথা বলব, স্বাধীনতার কথা বলব, বাংলার মানুষের কথা বলব।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে মাহি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমি ভালোবাসি। তার জন্য যদি রাস্তায় নেমে জীবনও দিতে হয়, আমি দেব। তিনি সব সময় শিল্পীদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখেছেন। শিল্পীরা কোন দল করেন, সেটা না দেখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
এ সময় তিনি বর্তমান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানুর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গও টানেন। মাহির দাবি, শিবা সানু নিজেও বলেছিলেন, অসুস্থ থাকার সময় শেখ হাসিনা তাকে আর্থিক সহায়তা দিতে চেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও শিল্পীদের সহযোগিতা করেছেন শেখ হাসিনা।
মাহি আরও দাবি করেন, শুধু শিবা সানু নন, বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ শিল্পী, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা-অভিনেত্রী, একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন, এমনকি চিকিৎসা কিংবা মরদেহ দেশে আনার প্রয়োজনেও অনেক শিল্পীকে আর্থিক সহায়তা করেছেন শেখ হাসিনা। তার মতে, এসব সহায়তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।
আরও পড়ুন
‘আল্লাহর চেয়ে বড় আর্টিস্ট আর কে আছেন!’, যে কারণে বললেন কনকচাঁপা
ভিডিওতে দেশের শিল্পীদের প্রতিও আহ্বান জানান মাহি। তিনি বলেন, ‘আপনারা কথা বলতে না পারলেও অন্তত অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করুন। একজন সাধারণ মানুষের কথা যতটা না ছড়ায়, একজন শিল্পীর একটি পোস্ট বা একটি বক্তব্য তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তাই দেশের মানুষের স্বার্থে শিল্পীদের নীরব না থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যারা অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক শিল্পীর দায়িত্ব। অন্তত প্রতীকীভাবে হলেও প্রতিবাদ করা উচিত।’
ভিডিওর শেষদিকে আবারও সমালোচকদের উদ্দেশে বার্তা দেন মাহি। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে যত খুশি অপমান করুন, আমার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করুন, তবুও আমি শেখ হাসিনার কথা বলব, স্বাধীনতার কথা বলব, বাংলার মানুষের কথা বলব। আমার অবস্থান বদলাবে না।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে নিয়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে নানা অভিযোগ তুলেছেন মাহিয়া মাহি। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন ভিডিওতেও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সন্তানকে নিয়ে ট্রল, রাজনৈতিক অবস্থান এবং দেশের শিল্পীদের ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এমএমএফ/এএসএম








