পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা আদর্শিক কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়া যায় না। হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদমুক্ত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হলি আর্টিজান হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এক স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ এবং তাদের নামফলকে ফুল দিয়ে সম্মান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান অ্যালবার্ট সিয়া, বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ ওইদিন হলি আর্টিজানে হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন জিম্মি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের ক্ষত বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। হলি আর্টিজান হামলা দেশের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়েছে। সেদিন সন্ত্রাসীরা আশা, মানবতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধকে আঘাত করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরীহ নাগরিকদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। একজন মা হিসাবে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান ও স্বজন হারানোর বেদনা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান হামলা ছিল বাংলাদেশের সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার ওপর একটি পরিকল্পিত আঘাত। কিন্তু বাংলাদেশ ঐক্য ও দৃঢ়তার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ১০ বছর আগে সংঘটিত সেই হামলায় অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। নিহত ইতালীয়রা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। আর জাপানি নাগরিকরা জাইকার উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন, যার অবদান আজও বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান। নিহতরা বিভিন্ন দেশের হলেও অধিকাংশই ছিলেন তরুণ, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় মানুষ। তাদের স্মরণ করা মানে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে স্মরণ করা।

ইতালির রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেলার বার্তা পাঠ করে শোনান। বার্তায় রাষ্ট্রপতি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সংহতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিরাপদ, উন্মুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, হলি আর্টিজানের ১০ম বার্ষিকীতে সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত ‘নেভার অ্যাগেইন’ বা এমন ঘটনা আর কখনো ঘটতে দেওয়া যাবে না।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ১ জুলাই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ হামলায় ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, এক ভারতীয়, এক বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হামলাকারীদের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান তৎকালীন বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম।