নলডাঙ্গার জাহিদুল ইসলাম অমি ছোটবেলা থেকেই জড়িয়ে পড়েন বিএনপির রাজনীতিতে। ধ্যান-জ্ঞান সবই তার বিএনপির রাজনীতি ঘিরে। আর এ রাজনীতি করতে গিয়ে গত দেড় যুগে অনেকবার শিকার হয়েছেন জেল-জুলুমের। সময় দিতে পারেননি পরিবারকে। ‘পরিবারে মনোযোগ নেই, দলের প্রতি টান বেশি’-এ অভিযোগে সন্তানকে নিয়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গেছেন অনেকদিন আগেই। বাবা-মাও তাকে বাড়িতে স্থান দেন না। দীর্ঘদিন তিনি অন্যের বাড়িতে থেকেছেন। অবশেষে তিনি উপায় না পেয়ে নিজের বিছানাপত্র নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়ে শুরু করেছেন বসবাস। জাহিদুল ইসলাম অমি নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের বাঁশিলা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। বসবাস করার জন্য তিনি প্রায় দুই মাস আগে উপজেলার মাধনগর ইউনিয়য়ের বাঁশিলা ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে উঠেছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল কিশোর বয়স থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গত ১৭ বছর তিনি অনেকবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। এতে হারিয়েছেন সর্বস্ব। তবুও কখনো পিছপা হননি, রাজনীতি ছাড়েননি। বিরক্ত হয়ে স্বজনরা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ‘পরিবারে মনোযোগ নেই, দলের প্রতি টান বেশি’-সে অভিযোগে স্ত্রী লাকী বেগম গত মে মাসে ছোট মেয়ে তানিসাকে নিয়ে বাবার বাড়ি বরিশালে চলে গেছেন। নিজের জন্মদাতা বাবা-মাও তাকে বাড়িতে স্থান দেন না। গত মাসে স্ত্রী লাকী বেগম তাকে তালাকনামাও পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি রাতে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে থাকতেন। দীর্ঘদিন এভাবে বসবাস করায় গ্রামের মানুষও এখন আর তাকে আশ্রয় দিতে চান না। এমন অবস্থায় জাহিদুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়েই বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে দলের একজন শুভাকাক্সক্ষী একটি কাঠের চৌকি কিনে দিয়েছেন। বাঁশিলা ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ের এক কোণায় চৌকিতে বিছানা পেতেছেন তিনি। এক কক্ষের দলীয় কার্যালয়ে বসে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি আমার মগজে। রাজনীতি বাদ দিতে বললে আমার মাথা নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানের মন জয় করতে পারিনি। আমি একে একে সব হারিয়েছি। এখন পেটের দায়ে অন্যের কাজ করি, বাকি সময় অফিসে কাটাই। নেতারা বাধা না দিলে এখানেই বাকি জীবন কাটিয়ে দেব। আর যদি কোনো নেতার দয়া হয়, তাহলে তার কাছে একটা ঘর চাইব।’
এ সম্পর্কে মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি রায়হান মিয়া বলেন, ‘জাহিদুল ইসলাম একজন ভালো কণ্ঠশিল্পী। তার অনেক নির্বাচনি গান রয়েছে। তার জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। তাই আজ তিনি দলীয় কার্যালয়ে উঠে বসবাস শুরু করেছেন।’ নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন তুষার বলেন, ‘জাহিদুলের ব্যাপারে খোঁজ নিতে উপজেলার নেতাদের বলা হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে জাহিদুলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।’







