শরীয়তপুরে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নড়িয়া উপজেলার বিল দেওয়ানিয়া এলাকার আতাহার মাদবর (৩৬), সদর উপজেলার শৌলপাড়া এলাকার সুমন সরদার (৩০), মো. রুবেল ব্যাপারী (৩০), মো. সাগর খলিফা (২৯) ও শিপলু খান (৪৫)।
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার গয়ঘর খলিফাকান্দী এলাকার ব্যবসায়ী মিজান শেখ গত ২২ আগস্ট বিকেলে ঘরে তালা দিয়ে অসুস্থ মাকে নিয়ে চিকিৎসক দেখাতে ঢাকায় যান। এ সুযোগে ২৩ আগস্ট দিবাগত রাতে চোরেরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে সাড়ে ৩৪ হাজার টাকা এবং প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট মিজান শেখ পালং মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পরদিন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শৌলপাড়া এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওই দিন তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আতাহার মাদবরের দেওয়া তথ্যে শৌলপাড়া বাজারের ‘সুস্মিতা শিল্পালয়’ নামের একটি স্বর্ণের দোকান ও তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এ সময় সুস্মিতা শিল্পালয়ের সুমন পালকেও (৩২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গঙ্গানগর স্বর্ণকারপট্টির ‘মা জুয়েলার্স’ ও তাঁর বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেও চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন আকৃতির চারটি চেইন, ছোট-বড় সাতটি আংটি, সাত জোড়া দুল, একটি ব্রেসলেট, একটি নেকলেস, একটি লকেট ও তিনটি গলানো স্বর্ণের টুকরা।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার আসামিদের আবারও আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অপর আসামি রবিন খলিফা (২৭) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার এবং চোরাই বাকি স্বর্ণালংকার ও টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








