ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির নির্বাচিত এমপি সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি আগামী ২৭ জুলাই (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।

এর আগে, একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন আপিল বিভাগে আবেদন করে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় স্থগিত এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তার অংশগ্রহণে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়েছেন।

আরও পড়ুন

এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির সারোয়ার আলমগীর

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম জানান, আবেদনটি আপিল বিভাগের চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে। সে কারণে আগামী ২৭ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

যে কারণে বিরোধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন। পরে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়।

সরোয়ার আলমগীরের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের পরই নির্বাচন কমিশন সচিবালয় চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। একই দিন তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

এরপর ১২ জুলাই হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন।

মামলার পটভূমি

গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিন।

ইসি আপিল মঞ্জুর করে ১৮ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে এবং সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।

পরে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করলে ২৭ জানুয়ারি আদালত তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন।

আরও পড়ুন

ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ, জনগণের ভোটে জিতেই সংসদে এসেছি: সরোয়ার আলমগীর

এ আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ নির্দেশ দেন, সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

পরে জামায়াতের প্রার্থী নিয়মিত আপিল করেন। গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং ততদিন পর্যন্ত ৩ ফেব্রুয়ারির আদেশ বহাল রাখেন।

এরপর ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে আপিল বিভাগের শুনানি চলছে।

এফএইচ/এসএইচএস