সরকার আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগাবে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন একাডেমি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে এ কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হবে। তবে চলতি অর্থবছরের আগামী ছয়-সাত মাসের মধ্যে সরকার সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগাবে। এর মধ্যে ২ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ এবং বাকি সাড়ে তিন কোটি দেশজ ফলের গাছ। গাছ লাগানো বাবদ সরকার কাউকে কোনো অর্থকড়ি দেবে না। কাউকে কোনো গাছের চারা, জমি, মাঠ কিংবা বাগানও দেবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যদি কেউ স্বেচ্ছায় গাছ লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করে তাহলে সরকার তার সঙ্গে থাকবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গাছ লাগাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যবহার করা হবে। তবে গ্রামের বয়স্ক নারী, বয়স্ক পুরুষ ও যুবসমাজকে সরকার কাজে লাগাতে চায়। যারা স্বেচ্ছায় গাছের চারা দেখাশোনা করতে চায় তাদের দায়িত্ব দেবে সরকার। তাদের তত্ত্বাবধান এবং যত্নে গড়ে উঠবে ২৫ কোটি গাছের সবুজ বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে সরকারের কাছে প্রায় ৯শ প্রতিষ্ঠান গাছ লাগানোর জন্য জমি, গাছের চারা, বাগান, মাঠ, উদ্যান ও ফান্ড চেয়ে আবেদন করেছে। ওইসব আবেদন বর্তমানে সরকার যাচাই-বাছাই করছে। এদিকে আজ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষ্যে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ।

জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রকৃত প্রস্তাবে সরকারের টার্গেট হচ্ছে ৩২ কোটি গাছ লাগানো। সাত কোটি গাছ হয়তো বিভিন্ন কারণে মারা যেতে পারে। কমপক্ষে ২৫ কোটি গাছ যেন টিকে যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকার আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সাড়ে ৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে বন বিভাগ ৮৩ লাখ গাছের চারা রোপণ করেছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগও বিপুলসংখ্যক গাছের চারা লাগিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার যেসব গাছ দ্রুত বড় হয় সেসব দেশজ ফলের গাছের চারা লাগাতে চায়।

পরিবেশমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন : পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচিতে স্যাটেলাইট, জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ড্রোন প্রযুক্তি এবং জাতীয় ট্রি ডেটাবেস ব্যবহার করে প্রতিটি গাছের অবস্থান ও টিকে থাকার হার পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে এ কর্মসূচির মাধ্যমে সাড়ে তিন লাখ সবুজ কর্মসংস্থান (গ্রিন জব) সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এবারের বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ রাজধানীতে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিন, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিন এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় থাকবে ১২০টি স্টল। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ এবং মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।