ভারতের অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।

রামমন্দির ট্রাস্টের বৈঠকের পর ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি জানান, প্রাথমিক তদন্তে চম্পত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, চম্পত রায় চুরির ঘটনায় জড়িত নন। তার দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত গাড়িচালকের মাধ্যমে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে এবং এর পেছনে বাইরের কারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাস্টে একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।

এরপর রামভক্তদের উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে চম্পত রায় বলেন, তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ আনা হলেও তিনি এতদিন নীরব ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদন এসেছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। তখন পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, তদন্তকারী দলের কাছে দেওয়া এক লিখিত জবাবে চম্পত রায় অভিযোগের দায় অন্য এক ট্রাস্ট সদস্যের ওপর চাপিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন, অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে এই নথির বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই ঘটনার পূর্ণ সত্য সামনে আনা উচিত। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তার মতে, শুধু নিুপদস্থ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।