প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিপুল সমর্থন নিয়ে গঠিত বর্তমান সরকারের জনমুখী চেতনাকে ধারণ করে দেশের স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ডা. জোবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা বিষয়ক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত অবহেলা ও জবাবদিহিতার অভাবে ভুগেছে। বর্তমানে দেশের নাগরিকদের নিজেদের পকেট থেকে প্রায় ৭২ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হয়, যা কোনো পরিবারে রোগব্যাধি এলে তাকে সরাসরি দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় মর্যাদাসম্পন্ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ (এনসিডি), প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়নের ফলে স্বাস্থ্য খাতে নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এই বহুমাত্রিক সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন নতুন চিন্তাধারা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব।
বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
হেলথ এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ কেবল ব্যবসা করা বা বাণিজ্যিকীকরণ নয়, বরং সৃজনশীলতা ও নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে সমাজের বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যার টেকসই ও নৈতিক সমাধান খোঁজা। তরুণদের সঠিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং সুযোগ দিলে তারা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা না দিয়ে ব্যবহারিক ও বহু-ডিসিপ্লিনারি গবেষণার পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
রোগ প্রতিরোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে হবে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং পুষ্টিহীনতার মতো সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। একইসঙ্গে নারী, শিশুসহ সবার স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।







