দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) চলছে কার্যত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই। হাসপাতালটিতে ৮ শয্যার আইসিইউ থাকলেও সেখানে নেই আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ফলে সংকটাপন্ন রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আইসিইউ ইউনিট পরিচালনার জন্য একজন সহযোগী অধ্যাপক, দুজন সহকারী অধ্যাপক, একজন রেজিস্ট্রার এবং দুজন কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ওই পদগুলোতে একজন চিকিৎসকও কর্মরত নেই। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা এসব পদ পূরণ না হওয়ায় কয়েকজন মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে সীমিত জনবল দিয়েই চলছে আইসিইউ কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে একজন অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে আইসিইউর দায়িত্ব পালন করছেন। জাহিদ নামের ওই চিকিৎসক একাই পুরো ইউনিট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আইসিইউ বিভাগে কর্মরতরা বলছেন, আইসিইউ শুধু শয্যা ও যন্ত্রপাতিনির্ভর কোনো ইউনিট নয়; বরং এটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, দক্ষ নার্স এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার। কিন্তু শেবাচিম হাসপাতালে বর্তমানে আইসিইউর বড় ভরসা হয়ে উঠেছে কেবল নার্সিং সেবা ও সীমিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন চিকিৎসক। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন শত শত রোগী এই হাসপাতালে আসেন। দুর্ঘটনায় আহত, হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট ও জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য আইসিইউ সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের প্রত্যাশিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠতলায় ৫০ শয্যার আধুনিক আইসিইউ নির্মাণকাজ চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন এই ইউনিট চালু করা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। বর্তমান ৮ শয্যার আইসিইউই যেখানে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে ৫০ শয্যার নতুন আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া না গেলে সেটি চালু করা হবে আরও কঠিন। হাসপাতাল পরিচালক ব্রি. জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, আইসিইউতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আইসিইউ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, নতুন আইসিইউ চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের রোগীরা আরও উন্নত সেবা পাবেন। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না পেলে নতুন আইসিইউ চালু করা খুবই কঠিন হবে।