২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ৩৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এই হতাশাজনক ফলের পর আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ‘বিড়াল ঘটনা’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক দাবি করছেন, সেই ঘটনার পর থেকেই যেন দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ছে না সেলেসাওদের।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে। এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে টেবিলের ওপর উঠে বসে একটি বিড়াল। তখন দলের এক সংবাদ কর্মকর্তা বিড়ালটিকে ঘাড় ধরে টেবিল থেকে ছুড়ে ফেলে দেন। ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিশেষ করে কাতারে বিড়ালকে সম্মান ও স্নেহের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ইসলামি ঐতিহ্যেও বিড়ালকে বিশেষ মর্যাদার প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ওই ঘটনার পর অনেকেই ব্রাজিলের আচরণকে অসম্মানজনক বলে সমালোচনা করেছিলেন।
সমালোচনার মুখে পরে ব্রাজিল দল একটি বিড়ালকে দত্তকও নিয়েছিল। এমনকি তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সেই বিড়ালের নাম রাখা হয়েছিল ‘হেক্সা’। তবে এরপরই টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।
২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাতেও ব্রাজিল ফাইনালে পর্যন্ত উঠতে পারেনি। এছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও তেমন ভাল পারফর্ম করতে পারেনি ব্রাজিল।
২০২২ সালের সেই ঘটনার চার বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সেলেসাওরা। শেষ ষোলোতেই নরওয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ‘বিড়ালের অভিশাপ’ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও ‘বিড়ালের অভিশাপ’ নিয়ে কোনো প্রমাণ বা বাস্তব ভিত্তি নেই। এটি মূলত সমর্থকদের মধ্যে প্রচলিত একটি কুসংস্কার বা প্রতীকী ব্যাখ্যা। ব্রাজিলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পেছনে ফুটবলীয় কারণই প্রধান, যদিও ভক্তদের একাংশ এখনও কাতারের সেই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন।
আরআর/এমএমআর








