জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, বিগত ১৬ বছর প্রশাসনকে দলীয় প্রশাসন হিসেবে পেয়েছে দেশের মানুষ। কিন্তু শেখ হাসিনার শেষ পরিণতি তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তার দলীয় প্রশাসন তাকে রক্ষা করতে পারেনি। শেখ হাসিনা নিজে ধ্বংস হয়েছেন, দলটাকেও ধ্বংস করে দিয়েছেন। এ কারণে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে জনগণ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে পাবনার চাটমোহরে জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যকালে এ কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সিস্টেমে সাধারণ মানুষ কোনো সেবা সুবিধা পায় না। প্রত্যেক জায়গায় দালাল ধরে, টাকা দিয়ে, কাউকে দিয়ে ফোন করিয়ে সুবিধা পেতে হয়। এটা বাংলাদেশের কোনো সিস্টেম হতে পারে না, স্বাধীন সার্বভৌম কল্যাণকর রাষ্ট্র হতে পারে না। ক্ষমতাবানরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করলেও, হাজারো সাধারণ মানুষ সেখানে মাথা ঠুকে মরে। এটা দেশ হতে পারে না।

এনসিপির বিরুদ্ধে তোলা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। এসব অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করেন।

নিজেদের মন মগজ বিবেকবোধ বিসর্জন না দেওয়ার আহ্বান  জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, সবার আগে সিস্টেমের পরিবর্তন লাগবে। আমাদের ফাইট হলো ভালো-মন্দের ফাইট, জালিম-মজলুমের ফাইট, ন্যায়-অন্যায়ের ফাইট। কারা চাঁদাবাজি করে, কারা মাদক ব্যবসাকে শেল্টার দিচ্ছে, কারা অন্যায় করছে সেটা ভেবেচিন্তে ভালোর পক্ষে ভোট দিতে হবে। সেখানে যদি এনসিপি ভালোটা ধারণ না করে তাদের ভোট দেওয়ার দরকার নাই। সব জায়গায় আলোচনা শুরু হোক, আগামী দিনে ভোটটা হবে ভালো মানুষের পক্ষে।

সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা দিল্লিতে বসে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু এদেশের তরুণরা আর তাকে ভয় পায় না। হুমকি দিয়ে লাভ নেই। হাসিনার দিন শেষে, কিন্তু হাসিনার বানানো ফ্যাসিবাদ যে কাঠামো সেটা কিন্তু রয়ে গেছে। হাসিনার পরিবর্তে অন্য আরেক ভাই ফ্যাসিবাদী হওয়ার চেষ্টা করছেন। আশা করবো তিনি সে পথে যাবেন না। কিন্তু তার চারপাশে যারা আছে তারা আগের সেই ফ্যাসিবাদ কাঠামোর মধ্যে নিজেদের ক্ষমতাকে উপভোগ করছেন। তাদের থামাতে হবে। 

আওয়ামী লীগের আমলেও এতটা নির্লজ্জের মতো দলীয়করণ পারিবারিককরণ হয় নাই, যেটা বিএনপি গত চার মাসে করেছে। তারা এখন ৩১ দফাও মানে না, গণভোটের রায়ও  উড়িয়ে দিয়েছে, যোগ করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব।

জাতীয় নাগরিক কমিটি পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে এবং জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খন্দকার আক্তার হোসেন লেবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জুলাই আন্দোলনে পাবনার অন্যতম সমন্বয়ক বরকতুল্লাহ ফাহাদ, চাটমোহর উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব খায়রুল ইসলাম প্রমুখ। 

এ সময় চাটমোহর পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খন্দকার আক্তার হোসেন লেবুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা চাটমোহর সরকারি কলেজ গেট থেকে মিছিল সহকারে পদযাত্রা নিয়ে চাটমোহর বালুচর খেলার মাঠে সমাবেশ স্থলে পৌঁছান।