গণ-অভুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বক্তারা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ফ্যাসিবাদ একটা প্রতীকী শব্দ। এটি শুধুই আওয়ামী লীগ বা বাকশাল নয়। ফ্যাসিবাদ ইজ এ সিম্পটম, এ সিনড্রোম। এটার বিরুদ্ধে সবাইকে সক্রিয় অবস্থান নিতে হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দেশ ধ্বংস ও লক্ষকোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। দেশের রাজনীতিতে তার আর ফিরে আসার সুযোগ নেই।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান বলেন, সহজেই ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিচার বিভাগের জন্য একটি স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সংস্কারের বিষয়ে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছি। গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সরকার দ্বিচারিতা করে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে না।

দ্য ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের যারা সন্ত্রাসী বলেছিল এবং ছোট ছোট শিশুদের হত্যা করেছে তারা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়ায় শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম আক্ষেপ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও সংসদ-সদস্য আকতার হোসেন বলেন, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে আজকে কোর্টের মধ্য দিয়ে যে অর্জন, সে অর্জনটার প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারি কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের ৭০ শতাংশ পক্ষে ভোট দিয়েছিল। আমরা কোর্টের মুখাপেক্ষী ছিলাম না, আমরা জনগণের কাছ থেকে রায় নিয়ে এসেছি।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্ন তো শুধু বিচারিক প্রক্রিয়া নয়, ইটস এ পলিটিক্যাল কোশ্চেন। যেটা রাজনৈতিক দলগুলো গণ-অভ্যুত্থানের সবপক্ষ মিলে একমত হয়ে গেছে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের ব্যাপারে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আরও বক্তব্য দেন শহীদ আরাফাত হোসেনের ভাই মো. আলী, এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিয়া, সাংবাদিক সালাউদ্দিন প্রমুখ।