‘জয় বাংলা ব্রিগেড’র একটি অনলাইন সভায় অংশ নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অবশিষ্ট শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল জানান, কারাগারে থাকা কয়েকজন আসামির পক্ষে সময় আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলার অন্য আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলার ২৪ জন আটক আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও চারজন নারী। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং তাদের উপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, এ মামলার আসামি জামিরুল ইসলাম বাবু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার এনামুল হক রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
পরে ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর পলাতক ২৬১ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। ১১ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৯-এ অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে থাকলেও চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তা ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। সেখানে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেন এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এমডিএএ/এমকেআর








