সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের পর তাদের উদযাপন নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ফকল্যান্ড ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ফিফার তদন্ত চান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার হাতে তুলে ধরেন, যেখানে লেখা ছিল— ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ এর অর্থ, ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’

এই ঘটনায় ফিফার তদন্ত দাবি করেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল। তাঁর আহ্বানকে সমর্থন করেছেন স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, রাজনৈতিক বার্তা ফুটবলের অংশ হওয়া উচিত নয়—এমন অবস্থান থেকেই প্রধানমন্ত্রী তদন্তের পক্ষে রয়েছেন।

স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। দ্বীপবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে এবং ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি কখনোই দুর্বল হবে না।’

মুখপাত্র আরও যোগ করেন, ‘আরও বিস্তৃতভাবে বললে, সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি ফিফার দায়িত্ব। তবে এটি একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ এবং শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি—রাজনীতি যেন ফুটবলের বাইরে থাকে।’

আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ব্যানার প্রদর্শনকে ফুটবলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না রাখার নিয়মের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন কাইল। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের অন্যতম মূলনীতি হলো—রাজনীতি ও ফুটবল আলাদা থাকবে। এখন বিষয়টি ফিফার হাতে। আমি আশা করি, ফিফা বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করবে।’

ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার কোন দলকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ফাইনালের জন্য দুই দলকেই শুভকামনা জানিয়েছেন, বিশেষ করে স্পেনকে।’

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ওই যুদ্ধে ৯০০’র বেশি মানুষ নিহত হন।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ঘিরেও তাই রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা ছিল। এর মধ্যেই আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ব্যানার প্রদর্শন নতুন করে দুই দেশের পুরোনো বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে।