দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার শেষ জীবনে একটি স্বপ্ন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। সেই স্বপ্ন ছিল পাপেটভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘বীর পুরুষ’ নির্মাণ। সিনেমাটির প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হলেও অসুস্থতার কারণে সেটি আর সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুস্তাফা মনোয়ার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তবে নির্মাতার অসুস্থতার মধ্যেও থেমে থাকেনি তার স্বপ্নের প্রকল্প। নিজের হাতে গড়ে তোলা মাল্টিমিডিয়া পাপেট থিয়েটারের কর্মীরা সিনেমাটির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সোহেল আহমদ।
মুস্তাফা মনোয়ারের বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকা পাপেট বাড়ির কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, ‘বীর পুরুষ’ সিনেমার কাজ এখনও চলমান। চলচ্চিত্রটির জন্য তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য পাপেট। প্রতিটি পুতুলে ফুটে উঠেছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও শ্রমের ছাপসেখানে কথা হয় অনুকূল চন্দ্র দাসের সঙ্গে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে কাজ করেছেন।
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘স্যারের অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল একটি পাপেট সিনেমা নির্মাণ করবেন। ‘বীর পুরুষ’ সেই স্বপ্নেরই অংশ। সিনেমাটি নির্মাণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করেছে। স্যার নিজেই অনেক পাপেট তৈরি করেছেন। আমরা তার সঙ্গে কাজ করেছি, এখনও সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
কয়েকটি পাপেট দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো সব সিনেমার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। আমরা চাই স্যারের স্বপ্নের সিনেমাটি শেষ করতে। প্রায় এক বছর ধরে স্যার অসুস্থ ছিলেন। তবুও কাজ থামাইনি। এখন কাজ চলছে, তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি সম্পন্ন করা যাবে কি না, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’
এমআই/এলআইএ








