গ্রুপপর্বের পর নকআউটের প্রথম হার্ডলসও শেষ। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ এখন ১৬ দলের টুর্নামেন্ট। কলম্বিয়া-ঘানা ম্যাচ দিয়ে আজ সকালে শেষ হয়েছে শেষ বত্রিশের লড়াই।

ফুটবলপ্রেমীদের দম ফেলার ফুরসত না দিয়ে আজই শুরু হয়ে যাচ্ছে শেষ ষোলোর রোমাঞ্চ। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে শেষ ষোলোর প্রথম দ্বৈরথে মুখোমুখি হবে কানাডা ও মরক্কো। তবে সবার চোখ থাকবে দ্বিতীয় ম্যাচে। রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়ায় জার্মানির ‘ঘাতক’ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স।

আসরের সবচেয়ে ছন্দময় দল ফ্রান্সের ক্ষুরধার আক্রমণভাগের সঙ্গে মূল লড়াইটা হবে প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ১২০ মিনিট আটকে রাখার পর টাইব্রেকারে বাজিমাত করে প্যারাগুয়ে। প্রশ্ন হলো, আগুনে ফর্মে থাকা ফ্রান্সকে কি একই কৌশলে থামানো সম্ভব? ফরাসি ঝড়ের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারছে না। শেষ বত্রিশে সুইডেন উড়ে গেছে ৩-০ গোলে। চার ম্যাচের সবকটি জেতা ফ্রান্স প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে ১৩ বার। সর্বোচ্চ ছয় গোল অধিনায়ক এমবাপ্পের। এছাড়া উসমান দেম্বেলে চারটি, ব্র্যাডলি বার্কোলা দুটি ও দেজিরে দুয়ে করেছেন এক গোল। আক্রমণভাগের আরেক নক্ষত্র মাইকেল ওলিসে বানিয়ে দিয়েছেন পাঁচটি গোল। ফরাসি আক্রমণভাগ যেন পুরো আগুন। তবে সেই আগুনে পানি ঢালতে পারার বিশ্বসটুকু অন্তত আছে প্যারাগুয়ের।

জার্মানিকে বিদায় করার আগে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে হারানোর সুখস্মৃতি থাকায় ফ্রান্সকে হারানো অসম্ভব মনে করছেন না প্যরাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো। বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে কোনো গ্লানি নেই তার, ‘প্যারাগুয়ের জন্মই হয়েছে রক্ষণের জন্য। যে কোনো পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়া আমাদের খেলার ধরন। কষ্ট না করে আমরা কিছু পাই না। ফ্রান্স অনেক বড় দল। কিন্তু কোনো দলই নিখুঁত নয়। সঠিক পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে আমরাও জিততে পারি।’

ফিফা র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল ফ্রান্সের বিপক্ষে আগের পাঁচ ম্যাচে কোনো জয় নেই ৪১ নম্বর দল প্যারাগুয়ের। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম শিরোপা জয়ের পথে শেষ ষোলোয় লাতিন দেশটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। সেই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। অনেক ভোগান্তির পর ফ্রান্স জিতেছিল লঁরা ব্লাঁর ১১৪ মিনিটের গোল্ডেন গোলে। সেই দলের অধিনায়ক দিদিয়ের দেশম এখন ফ্রান্সের কোচ। প্যারাগুয়েকে নিয়ে ভীষণ সতর্ক তিনি, ‘দক্ষিণ আমেরিকান লড়াকু ডিএনএ আছে প্যারাগুয়ের। ভালো খেলোয়াড়ও আছে তাদের। ঘটনাচক্রে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়া যায় না। জার্মানির মতো দলকে বিদায় করে এখানে এসেছে তারা। প্যারাগুয়েকে সমীহ করতেই হবে।’

প্রতিপক্ষের রক্ষণ-বাঁধ ভাঙতে আক্রমণের জোয়ারেই ভরসা ফরাসি ফরোয়ার্ড বার্কোলার, ‘তাদের খেলার ধরন সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে। জানি, কাজটা কঠিন হবে। আমাদের বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে এবং আমরা তা করবও। আশা করি, আক্রমণের পথেই সাফল্য আসবে।’