রায়পুরা উপজেলায় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত সরবরাহ না করা, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত তালিকা অনুসরণ না করা এবং বিতরণে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। মঙ্গলবার উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয়রা। সংবাদ সম্মেলনে রাধানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাপ মিয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি চান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, যুবদল নেতা মামুন মিয়া, মোরাদ হোসেন শিবলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোকুলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মনোহরাবাদ (খামার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকে শিক্ষার্থীদের শুধু রুটি দেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রুটির সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ডিম, দুধ ও কলা সরবরাহ করার কথা রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর ৫০ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজা আক্তার বলেন, ‘ঈদের পর থেকে আমাদের বিদ্যালয়ে শুধু রুটি এসেছে। ডিম, দুধ ও কলা নিয়মিত সরবরাহ করা হয়নি। এছাড়া ১৬ ও ২৩ জুন কোনো খাদ্যসামগ্রীই দেওয়া হয়নি। বিষয়গুলো বিদ্যালয়ের রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাব-ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল ডিলার আওলাদ মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্টদের চালান নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। চালানপত্র ও বিদ্যালয়ের রেকর্ড যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া আছে, যেদিন যে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে তা রেজিস্টারে লিখে রাখতে এবং সেই অনুযায়ী বিলে স্বাক্ষর করতে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’