চব্বিশের জুলাইয়ে দিন যতই এগোচ্ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছিল। সেই রক্তাক্ত জুলাইয়ের চতুর্থ দিন আজ। ২০২৪ সালের ৪ জুলাই ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে চতুর্থ দিনের আন্দোলনে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ এবং সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আন্দোলন আরও জোরদার করতে টানা কর্মসূচি ও ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। যা পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন বিস্তারের ভিত্তি তৈরি করে।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে আলাদা মিছিল নিয়ে সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে সম্মিলিত মিছিল নিয়ে হলপাড়া-ভিসি চত্বর-টিএসসি হয়ে দুপুর সোয়া ১২টায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে ফার্মগেট-শাহবাগ, শাহবাগ-পল্টন-মগবাজার রোড, শাহবাগ-সায়েন্সল্যাব রোড এবং শাহবাগ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ চত্বর ছাড়েন আন্দোলনকারীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জুলাই দুপুর ১২টায় মিছিল নিয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সদরঘাটগামী সড়কের আশপাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সেখানে ১ ঘণ্টা অবস্থান নেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা রায়সাহেব মোড় অবরোধ করেন। এ সময় গুলিস্তান ও বাবুবাজার থেকে সদরঘাট ও যাত্রাবাড়ীগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে শিক্ষার্থীরা আধা ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা কোটাবিরোধী নানা স্লোগান দেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। দুপুর ১২টায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকসংলগ্ন আগারগাঁও মোড় অবরোধ করেন। এতে মিরপুর-ফার্মগেট এবং মহাখালী-শিশুমেলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর দেড়টায় অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল ফের স্বাভাবিক হতে থাকে।

সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের রায় বহাল রাখায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন (ডেইরি গেট) ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা।

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর আগে বেলা ১১টায় চবির শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে আবাসিক হল ও মেসের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হন। পরে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্বরোড অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরে ময়নামতি জাদুঘরসংলগ্ন সড়ক দিয়ে কোটবাড়ী বিশ্বরোডে অবস্থান নেন তারা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরাতে ঘটনাস্থলে যান ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া ও প্রক্টর ড. মো. আব্দুল কাইউম। শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহারে রাজি না হয়ে জানান, দেশব্যাপী চলমান এ আন্দোলন একসঙ্গে প্রত্যাহার হবে।

এদিন দুপুর ১২টায় বিভিন্ন হল থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চে এসে সমবেত হন। এরপর সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি কেআর মার্কেট হয়ে পুনরায় মুক্তমঞ্চের সামনে দিয়ে এসে শেষ হয় আব্দুল জব্বার মোড়ে। এ সময় ঢাকা থেকে জামালপুরগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আসছিল। শিক্ষার্থীরা ট্রেনটি অবরোধ করেন।