বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ থেকে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিদায়ের পর বড় দলগুলোর রক্তচাপ বেড়ে গেছে। ইংল্যান্ড যেমন ৬০ বছরের শিরোপাখরা কাটানোর ঘোর থেকে বেরিয়ে বর্তমানে বাঁচার প্রয়োজন অনুভব করছে। আত্মতুষ্টির ফাঁদে পা দিয়ে ছোট দলের বড় শিকার হতে চায় না ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১০টায় আটলান্টায় আফ্রিকান চমক ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে পরিষ্কার ফেভারিট হলেও পা মাটিতেই রাখছে ইংল্যান্ড। গ্রুপপর্বে অধিনায়ক হ্যারি কেইন তিনটি ও জুড বেলিংহাম দুই গোল করলেও ছন্দের চূড়ায় এখনো পা রাখা হয়নি থ্রি লায়ন্সদের। ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে উড়ন্ত শুরুর পর ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিল ইংল্যান্ড। শেষ ম্যাচে পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হলেও মলিনতা ঝেড়ে ফেলতে পারেনি টমাস টুখেলের দল। ফলে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গোকেও এখন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছে তাদের!

প্রথম ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে রুখে দেওয়ার পর শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা ডিআর কঙ্গোকে সমীহ না করে উপায়ও নেই। মহামারি ও যুদ্ধপীড়িত আফ্রিকার দেশটির ফুটবলের সঙ্গে ইউরোপের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। দলের ২৬ ফুটবলারের মধ্যে ২০ জনেরই জন্ম ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মতো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ও অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে খেলেছেন ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে। ইংলিশ লিগেও খেলেন কঙ্গোর খেলোয়াড়রা। গ্রুপপর্বে তিন গোল করা ইয়োনে উইসা খেলেন নিউক্যাসলে। বিসাকা ওয়েস্ট হামে ও নোয়া সাদিকি খেলেন সান্ডারল্যান্ডে। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের খেলার ধরন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আছে ডিআর কঙ্গোর। হারানোর কিছু না থাকায় উইসারা এখন সিংহ-বধের স্বপ্ন দেখছেন। শেষ দুই ম্যাচে ইংল্যান্ডের রক্ষণের দুর্বলতা ও সৃষ্টিশীলতার অভাব দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের হারানো অসম্ভব নয়। নকআউটের প্রথম পরীক্ষার আগে সতীর্থদের সতর্ক করে ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন বলেছেন, ‘বেশি দূরে না তাকিয়ে আমাদের বর্তমানে থাকতে হবে। শান্ত থেকে সামনের ম্যাচে পুরো মনোযোগ দিতে হবে। নকআউটে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই। পর্তুগালের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর প্রথম ম্যাচটা আমি দেখেছি। উইসা গোল করেছিল। আমি তাকে চিনি। তাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো। আমাদের অবশ্যই সেরাটা খেলতে হবে।’