বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন থেকে আর্জেন্টিনা আর মাত্র এক ধাপ দূরে। কিন্তু সেই শেষ ধাপটাই সবচেয়ে কঠিন। প্রতিপক্ষ ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তাই ফাইনালের আগে নিজের দলকে সতর্ক করে দিয়ে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির বার্তা, শিরোপা জিততে হলে নিজেদের ‘সেরা সংস্করণ’ মেলে ধরতেই হবে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি জানিয়েছেন, অন্য যেকোনো ম্যাচের মতোই প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করেই প্রস্তুতি নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেবে নিজেদের পারফরম্যান্সই।
স্কালোনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচের মতোই প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সবকিছু ঠিকভাবে করা এবং প্রতিপক্ষকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা। জিততে হলে আমাদের সেরা সংস্করণটা মাঠে আনতে হবে। উন্নতির জায়গা সবসময়ই থাকে, কিন্তু আমরা ভালো অবস্থায় আছি। প্রতিপক্ষ আমাদের খুব ভালোভাবেই চেনে। তাই এই পর্যায়ে পৌঁছানো আমাদের জন্য আরও বেশি কৃতিত্বের। এখন আমরা ফাইনাল জিততে চাই।’
ফাইনালের আগে দল নিয়ে স্বস্তির খবরও দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার ভাষ্য, আপাতত সব খেলোয়াড়ই সুস্থ আছেন। শেষ অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবাইকে প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফুটবল দর্শনের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।
স্কালোনি বলেন, ‘আগামীকালের অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে আপাতত সবাই ভালো আছে। আমরা দুটি দলই বল দখলনির্ভর ফুটবল খেলি। কিছু কৌশলগত পার্থক্য থাকলেও মূল দর্শন প্রায় একই।’
প্রতিপক্ষকে নিয়ে বাড়তি বিশ্লেষণে বিশ্বাসী নন স্কালোনি। জানালেন, গত ডিসেম্বর থেকেই সম্ভাব্য সব প্রতিপক্ষকে নিয়ে কাজ করেছে তার কোচিং স্টাফ। শুধু স্পেনকে ঘিরে আলাদা কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।
তার ভাষায়, ‘ডিসেম্বর থেকেই সম্ভাব্য সব প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করছি। শুধু স্পেনকে নিয়ে আলাদা করে কাজ করিনি। অতিরিক্ত বিশ্লেষণও ভালো নয়। আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবেই চিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে লিওনেল মেসির প্রসঙ্গ। ৩৯ বছর বয়সে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাকে অবিশ্বাস্য অর্জন হিসেবে দেখছেন স্কালোনি। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের প্রশংসায় তিনি বলেন, ‘৩৯ বছর বয়সে লিও যেভাবে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। সে যা করছে, তার গল্প এবং কিংবদন্তিকে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। এই খেলোয়াড়দের দলটিই আমাদের এতগুলো অসাধারণ বছর উপহার দিয়েছে।’
পুরো দলকেও কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি আর্জেন্টিনা কোচ। দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে এই খেলোয়াড়দের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা। এত বছর ধরে এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাওয়া সহজ নয়। যাত্রাটা অসাধারণ ছিল। আশা করি, আমরা বিশ্বকাপ জিতেই এর সমাপ্তি টানতে পারব।’
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের চোখেও এখন একটাই লক্ষ্য, বিশ্বকাপ জয়। তিনি বলেন, এই আসরটি তিনি আগের বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি উপভোগ করছেন, কারণ নিজের পারফরম্যান্সে আরও উন্নতি করেছেন বলে বিশ্বাস করেন।
মার্তিনেজ বলেন, ‘প্রথম কাজ হলো জয়। আমি শুধু সেটাতেই মনোযোগ দিচ্ছি। কখনো কখনো এই দল নিয়ে আমরা যা অর্জন করেছি, সেটা ভাবলেই আমার চোখে পানি চলে আসে। জীবন, পরিবার, সতীর্থ এবং এই মুহূর্তগুলোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এমন মুহূর্ত সারা জীবনে খুব কমই আসে, তাই এগুলো উপভোগ করতে জানতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত বিশ্বকাপের চেয়ে এবার আমি অনেক বেশি উপভোগ করছি। আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে, পায়ের কাজেও উন্নতি করেছি। আর্জেন্টিনার মানুষ এবং আমার সতীর্থদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। রোববার আমি হাসিমুখেই মাঠে নামব।’








